১৪ অগস্ট ‘দেশভাগ দিবস’ পালনের ডাক, রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্জি রাজ্যপাল আরএন রবির

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

বহু রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশ ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল।  তবে দেশ ছাড়ার আগে ব্রিটিশ শাসকরা এই ভূখণ্ডকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে যায়।  ১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পরের দিন, ১৫ অগস্ট স্বাধীন হয় ভারত।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

স্বাধীনতার সেই আনন্দের সঙ্গে দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তু-সমস্যা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্ব হারানোর ইতিহাসও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।  দেশভাগের ফলে অসংখ্য মানুষকে তাঁদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল।  বহু মানুষ প্রাণ হারান, ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পরিবার।  সেই অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ও বেদনাদায়ক অতীতকে স্মরণ করতেই ২০২১ সাল থেকে ১৪ অগস্ট ‘পার্টিশন হররস রিমেমব্র্যান্স ডে’ (Partition Horrors Remembrance Day) হিসেবে পালন করা হচ্ছে।  চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটেই আগামী ১৪ অগস্ট রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পার্টিশন হররস রিমেমব্র্যান্স ডে’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পদাধিকারবলে আচার্য আরএন রবি।  রবিবার, ৯ অগস্ট লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই দিনটি পালনের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতেও একই কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে।

লোক ভবনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ অগস্ট পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের একত্রিত করে দেশভাগের ইতিহাস ও তার ভয়াবহতা স্মরণ করা হোক।  একই সঙ্গে দেশভাগের ফলে বাংলার উপর যে গভীর প্রভাব পড়েছিল, সেই বিষয়টিও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশভাগের ভয়াবহ অভিঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছিল বাংলাতেও।  লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল।  বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁদের জীবিকা ও সম্পত্তি হারান। এর পাশাপাশি বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক জীবনেও ব্যাপক পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

রাজ্যপালের বক্তব্য, দেশের ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের জানা প্রয়োজন।  দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ ও যন্ত্রণা হয়েছিল, তা স্মরণ করার পাশাপাশি সেই সময়ের পরিস্থিতি এবং তার পিছনে থাকা বিভিন্ন কারণ সম্পর্কেও তরুণ প্রজন্মকে অবহিত করা দরকার।

লোক ভবনের তরফে আরও বলা হয়েছে, অতীতের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করতে চায় এমন শক্তির বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।  সেই কারণে ১৪ অগস্টের স্মরণ কর্মসূচিকে শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যম হিসেবেও দেখার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।  আগামী ১০ অগস্ট কলকাতায় বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার পড়ুয়ার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকালে আকাশবাণীর কাছে জমায়েতের পর মিছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের দিকে যাওয়ার কথা।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।