“আমরা মরে যেতাম”—প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান, হালিশহরে তুমুল বিক্ষোভ

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগের পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেন।  কাঁচরাপাড়ায় যাওয়ার পথে হালিশহরের বীজপুর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে মমতার কনভয়।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা মমতার গাড়ি ঘিরে ধরেন।  গাড়ির দিকে ইট-পাথর ছোড়ার পাশাপাশি চটি, জলের বোতল ও কাদা ছোড়া হয়।  মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেয়।  পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে মমতার গাড়ি বের করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে গুরুতর বিপদ হতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।  মমতার কথায়, “আমার মাথা ফেটে যেত।  আমরা মরে যেতে পারতাম।” পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে বিক্ষোভকারীদেরই সুরক্ষা দিয়েছে।  তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির লোকজন রয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মমতার সঙ্গে থাকা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন।  তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে ব্যবহার করে মমতার সফর ঘিরে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।  দোলা সেনও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বিরজু কেওটকে তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ।  শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।  এরপর শনিবার তাঁর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিরজুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল।  তাঁর স্ত্রী জেনি শর্মার দাবি, লকআপের ভিতরেই মারধরের কারণে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।  যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পর রবিবার বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচরাপাড়ায় যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  সেখানে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, মমতা এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে কাঁচরাপাড়ায় এসেছিলেন।  বীজপুরের বিজেপি বিধায়কও মমতার সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশকে না জানিয়েই হালিশহরে গিয়েছিলেন মমতা,গাড়িতে হামলাকারীরা বিজেপির নয়।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।