দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে ফের চর্চা। এবার নোটিসের তালিকায় নাম উঠে এল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার। শালিমারবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে তাঁর তথ্যের মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর নিয়ম মেনে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়।
জানা গেছে, রেখা গুপ্তার সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম বলে তাঁর ভোটার-তথ্যে অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই কারণেই তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লির নির্বাচন দফতর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, SIR-এর সময় এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ভোটার এন্ট্রি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির’ তালিকায় চিহ্নিত হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে নোটিস পাঠানো হয় এবং বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই করা হয়।
যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য যাচাই বাছাই করার পর নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, রেখা গুপ্তার ভোটার এন্ট্রি বৈধ বলে নিশ্চিত হয়েছে। ফলে শালিমারবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য তা অনুমোদন করা হয়েছে। নির্বাচন দফতরের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৪ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা।
‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বলতে মূলত ভোটারের দেওয়া তথ্যের মধ্যে এমন কোনও অসঙ্গতিকে বোঝানো হচ্ছে, যা সংশোধন বা যাচাইয়ের প্রয়োজন তৈরি করে। বয়সের তথ্যের অসঙ্গতি তার একটি উদাহরণ। অন্যদিকে, ‘আনম্যাপড’ বলতে এমন ভোটারদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের বর্তমান তথ্য আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে মেলানো যায়নি।
দিল্লির SIR-এ এই দুই ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নোটিস পাঠানোর বিষয়টি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘নো ম্যাপিং’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ এই দুই শ্রেণির আওতায় যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩.৮ লক্ষ ভোটার ‘নো ম্যাপিং’ এবং প্রায় ১৯.৩ লক্ষ ভোটার ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ শ্রেণিতে রয়েছেন।
৩১ আগস্ট প্রকাশিত দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকাতেও বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। খসড়া তালিকায় প্রায় ৯৭.৫ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। এর আগে ভোটার তালিকায় সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ। মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকার মতো বিভিন্ন কারণে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে বলে নির্বাচন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।
তবে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নোটিস পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। নোটিস পাওয়া ভোটাররা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে নিজেদের দাবি জানাতে পারেন। একইভাবে, খসড়া তালিকায় নাম না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি জানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যায়।
রেখা গুপ্তার ঘটনায় আপাতত নির্বাচন দফতরের বক্তব্য স্পষ্ট তাঁর ভোটার তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি চিহ্নিত হওয়ায় নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও নথি পরীক্ষার পর তাঁর এন্ট্রি বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
