মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এ বার আন্দোলনের ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের প্রধান অভিজিৎ দীপকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কি কি দাবি করেছে ককরোজরা?
সিজেপির প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, ভোটার তালিকা নিয়ে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, তা শুধু জ্ঞানেশ কুমারের একার সিদ্ধান্ত নয়। এর পিছনে আরও কারা জড়িত, তাঁদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় দাবিতে আসন্ন সমস্ত নির্বাচন আপাতত বন্ধ রাখার কথা বলেছে সিজেপি। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর থাকা ভোটার তালিকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নথি ও তথ্য যাতে নষ্ট বা পরিবর্তন করা না যায়, তার জন্য সমস্ত নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।
তৃতীয় দাবিতে ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নতুন আইন তৈরি করতে হবে এবং সেই আইন তৈরির সময় নাগরিক সমাজের মতামত নেওয়া উচিত।
সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ ব্যক্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে ‘সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী’ বলেও অভিযোগ তোলেন দীপকে।
এই মন্তব্য এবং দাবির পাশাপাশি নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টেও নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরব হয়েছেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার একা এই সিদ্ধান্তগুলি নেননি। শাসক দলের নির্দেশেই তাঁকে ‘কলের পুতুলের মতো’ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে কমিশনের ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন।
যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
এ বার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সিজেপির এই আল্টিমেটামের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
