আজ আমরা জানবো, আরটিআই কী, কেন করা হয়, কারা করতে পারেন এবং কীভাবে অনলাইনে ও অফলাইনে আরটিআই আবেদন করা যায়। সরকারি কোনও দফতরে আবেদন করার পর দীর্ঘদিনেও উত্তর না পাওয়া, কোনও সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে তা জানা বা সরকারি কোনও নথি সংগ্রহ করতে চাইলে আরটিআই কীভাবে কাজে আসে, সেটাও সহজ ভাষায় জেনে নেব। পাশাপাশি জানবো, আরটিআই করতে কত টাকা লাগে, কত দিনের মধ্যে উত্তর পাওয়ার কথা এবং উত্তর না এলে কীভাবে প্রথম আপিল ও দ্বিতীয় আপিল করতে হয়।
আরটিআই কী?
আরটিআই (RTI) হলো সরকারি যেকোনো তথ্য জানার জন্য সাধারণ মানুষের একটি আইনি অধিকার। এর পুরো নাম রাইট টু ইনফরমেশন (Right to Information), বাংলায় একে ‘তথ্য জানার অধিকার’ বলে।
২০০৫ সালের এই আইন আইনের মাধ্যমে ভারতের যেকোনো নাগরিক যে কোন সরকারি অফিসের কাছে থাকা যেকোনো কাজের হিসাব বা তথ্য লিখিতভাবে চাইতে পারেন।
আপনার যদি কোনও সরকারি দফতরের কাছে থাকা কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বা নথি আপনার প্রয়োজন হলে আরটিআই
এর মাধ্যমে তা জানতে পারবেন।
ধরুন, আপনি কোনও সরকারি দফতরে একটি আবেদন করেছেন। কিন্তু অনেকদিন পরেও জানলেন না, সেই আবেদনটি কোথায় আছে, কার কাছে পাঠানো হয়েছে বা তার উপর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের তথ্য আরটিআই-এর মাধ্যমে চাওয়া যেতে পারে।
এই আইন ২০০৫ সালে তৈরি হয় এবং ১২ অক্টোবর ২০০৫ থেকে কার্যকর হয়।
কারা আরটিআই (RTI) করতে পারবেন?
ভারতের যেকোনো নাগরিক আরটিআই আবেদন করতে পারেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি কেন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইছেন, সরকারি অফিসের কাছে তার কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আপনার নেই। তবে মনে রাখতে হবে যে, আপনি যে তথ্যটি দাবি করছেন, সেটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে বা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।
আরটিআই (RTI) করে কী কী তথ্য নেওয়া যায়?
আরটিআই-এর মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও নথি চাওয়া যায়। যেমন —
• কোনো আবেদন বা ফাইলের বর্তমান স্ট্যাটাস এবং সেটি কোন কর্মকর্তার কাছে রয়েছে।
• সরকারি চিঠি, নির্দেশিকা, সার্কুলার, অর্ডার বা যেকোনো সিদ্ধান্তের কপি।
• সরকারি প্রকল্পের রিপোর্ট, খরচের হিসাব এবং যেকোনো সরকারি কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র।
আরটিআই (RTI) করতে কত টাকার দরকার পড়বে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন যেকোনো সরকারি অফিসে আরটিআই আবেদনের মূল্য ১০ টাকা।
অনলাইনে আবেদন করলে পোর্টালের নির্দেশিত পদ্ধতিতে (যেমন: নেট ব্যাংকিং বা ডেবিট কার্ড) ফি দেওয়া যায়। অফলাইনে করলে আদালতের স্ট্যাম্প (Court Fee Stamp), ডিমান্ড ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়।
তবে যাদের বিপিএল (BPL) সার্টিফিকেট রয়েছে তাদের আবেদন মূল্য দিতে হবে না।
আরটিআই (RTI) দুইভাবে করা যায়—অনলাইন এবং অফলাইন।
১. অনলাইনে আরটিআই করার পদ্ধতি:-
আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল রয়েছে, তাঁর মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের অফিসিয়াল http://rtionline.semtwb.in/aspx/index.aspx এ যান।
এরপর পোর্টালে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেলের মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে রেজিস্টার করুন।
এরপর নতুন পেজ খুলবে সেখানে গিয়ে দেখুন File RTI বা আবেদন ফর্মে আছে । সেখানে ড্রপডাউন মেনু থেকে আপনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যে নির্দিষ্ট দপ্তরের কাছে তথ্য জানতে চান, সেই বিভাগটি সিলেক্ট করুন।
তারপর একটা অপশন আসবে যেখানে আপনাকে আপনার আরটিআই-এর মূল বক্তব্যটি দিতে হবে। যে বিষয়ে করবেন আরটিআই করতে চাইছেন।
এরপর আপনাকে আপনার দাবির সপক্ষে সাপোর্টিং ডকুমেন্ট (PDF ফাইল) আপলোড করতে হবে ।
পাশে বিপিএল এর অপশন আছে, বিপিএল সার্টিফিকেট থাকলে সেই অপশন সিলেক্ট করুন। এরপর সার্টিফিকেট এর পিডিএফ ফাইল আপলোড করতে হবে।
যদি না থাকে তাহলে আপনাকে পেমেন্ট গেটওয়েতে (GRIPS পোর্টাল) গিয়ে নেট ব্যাংকিং, ডেবিট কার্ড বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে ১০ টাকা আবেদন ফি জমা করতে হবে এবং পেমেন্ট করার রিসিভটিও ডাউনলোড করে রাখতে হবে ।
সবশেষে আবেদনটি সাবমিট করার পর স্ক্রিনে একটি রেজিস্ট্রেশন বা আবেদন নম্বর (Acknowledgement Number) আসবে এছাড়াও আপনার রেজিস্ট্রার মোবাইল নাম্বারেও আসবে।
২. অফলাইনে আরটিআই করার পদ্ধতি:-
আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে না চান, তবে অফলাইনেও খুব সহজে আরটিআই আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য একটি সাদা কাগজে পরিষ্কারভাবে আপনার আবেদনটি লিখে সংশ্লিষ্ট রাজ্য জন তথ্য আধিকারিক (SPIO)-এর কাছে সরাসরি গিয়ে জমা দিতে পারেন অথবা ডাকযোগে (Post) পাঠাতে পারেন।
সেই আবেদনের চিঠিতে যেগুলো লিখবেন—চিঠির শুরুতে জন তথ্য আধিকারিকের পদ (যেমন- To, The SPIO) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের সঠিক ঠিকানা দিতে হবে।
এরপর বিষয়ের জায়গায় লিখতে হবে যে আপনি আরটিআই আইন ২০০৫-এর অধীনে তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন।
এরপর আপনি ঠিক কোন কোন তথ্য জানতে চাইছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ পরিষ্কারভাবে পয়েন্ট আকারে নিচে লিখতে হবে।
এরপর আবেদনকারীর নাম, বাবার বা স্বামীর নাম (যদি ফর্মে প্রয়োজন হয়) এবং সম্পূর্ণ ঠিকানা দিতে হবে।
এরপর যোগাযোগের সুবিধার জন্য আপনার মোবাইল নম্বর বা ই-মেল আইডি দিতে হবে (তবে এটি সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়)।এরপর আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ১০ টাকার একটি কোর্ট ফি স্ট্যাম্প (Court Fee Stamp) চিঠির কাগজের ওপর লাগিয়ে দিতে হবে অথবা ১০ টাকার ইন্ডিয়ান পোস্টাল অর্ডার (IPO) যুক্ত করতে হবে ।
আপনি যদি বিপিএল তালিকাভুক্ত হন, তবে ফি লাগবে না। শুধু বিপিএল কার্ডের জেরক্স কপি যুক্ত করে দিলেই হবে।
এরপর চিঠির নিচে স্থান, তারিখ এবং আপনার নিজের স্বাক্ষর (Signature) করতে হবে। সাথে যদি অন্য কোনো নথি বা কাগজ দেন, তবে তার একটি তালিকাও নিচে লিখে দিতে হবে।
এরপর আবেদনটি যদি ডাকযোগে পাঠান, তবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে স্পিড পোস্ট (Speed Post) বা রেজিস্টার্ড পোস্টে পাঠানোই ভালো। পোস্ট করার পর পোস্ট অফিসের দেওয়া রসিদ এবং ডেলিভারির প্রমাণটি অবশ্যই নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দেবেন। আর যদি সরাসরি সরকারি অফিসে গিয়ে আবেদন জমা দেন, তবে আপনার চিঠির একটি অতিরিক্ত জেরক্স কপি (Recieved Copy) সাথে নিয়ে যাবেন এবং সেখানে অফিসের গ্রহণের সিল (Stamp) বা ডায়েরি নম্বর অবশ্যই নিয়ে নেবেন।
কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের দেওয়া আরটিআই ফর্ম: Download
আরটিআই-এর উত্তর কত দিনে পাওয়া যায়?
সাধারণ ক্ষেত্রে আরটিআই (RTI) আবেদন জমা পড়ার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি অফিস থেকে উত্তর দেওয়ার নিয়ম। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনে আলাদা সময়সীমাও রয়েছে। যেমন, কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নির্দিষ্ট তথ্যের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেওয়ার কড়া বিধান আছে । তাই আরটিআই করার পর আবেদনের তারিখ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি অবশ্যই যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। ৩০ দিনের মধ্যে উত্তর না এলে কী করবেন?নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি অফিস থেকে কোনো উত্তর না এলে অথবা উত্তর পেলেও যদি আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য না পান, তবে আপনি প্রথম আপিল (First Appeal) করতে পারবেন
এই আপিলটি করতে হয় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ এফএএ (First Appellate Authority)-এর কাছে। মূল আরটিআই আবেদন করার তারিখ থেকে সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে (অথবা উত্তর পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে) এই প্রথম আপিল করতে হয়।
প্রথম আপিল করার সময় আপনার চিঠির সাথে মূল আরটিআই আবেদনের কপি, আবেদন নম্বর, ফি জমার রসিদ এবং সরকারি অফিস থেকে কোনো উত্তর এসে থাকলে সেই উত্তরের কপিটি অবশ্যই যুক্ত করে দিতে হবে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
