উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে আবদুল বারেককে ঘিরে নতুন করে উঠছে প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, গত ২ জুন তাঁকে বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় চার মাস ধরে তাঁর কোনও সন্ধান মিলছে না। তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও পরিবারের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে—এমন কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পরিবারের দাবি, ২ জুন রায়গঞ্জ থানার অধীন ভাটোল ফাঁড়ির সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মীরা গোপালপুরের বাড়িতে গিয়ে বারেকের পরিচয়পত্র দেখতে চান। নথি দেখানোর পর তাঁকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি এবং কোনও গ্রেফতারি মেমোও দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
সংবাদসংস্থা Scroll-এর প্রতিবেদনে পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রথমে বারেককে ভাটোল ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে নথি যাচাইয়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন পর তাঁকে ফের ডাকা হয়। তখন তাঁকে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া এবং পরে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল বলে তাঁর ছেলে জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন। কয়েক দিন পর বাংলাদেশ থেকে ফোন পাওয়ার পর তাঁরা বারেককে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানতে পারেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, পুলিশ বারেককে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তার ভিত্তিতে কোনও নথি বা প্রমাণ পরিবারকে দেখানো হয়নি। অন্যদিকে, বারেকের কাছে ২০২১ সালে ইস্যু হওয়া ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র এবং ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছিলেন বলেও দাবি পরিবারের।
বারেকের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও আইনি প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করার কথা। তাঁর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া কী ভাবে হয়েছে, কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা নথি রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বারেকের পরিবারে প্রায় ২৩ জন সদস্য রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তিনি মাছচাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরিবারের অন্যতম প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বা মাসুম বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক কীর্তি রায়ের অভিযোগ, বারেককে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর গ্রেফতার বা হেফাজতের স্পষ্ট সরকারি রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ২ জুনের গ্রেফতার তালিকাতেও তাঁর নাম নেই বলে সংগঠনের দাবি।
রায়গঞ্জ থানার কাছে বিষয়টি নিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল বলেও সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য চাওয়ার পরও কোনও লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের বক্তব্য জানতে Scroll এর তরফেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে এখন মূল প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে- বারেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর বা মামলা হয়েছে কি না, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকলে তার সরকারি নথি কোথায়, তাঁকে কোনও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছিল কি না এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনের তরফে রায়গঞ্জ থানা ও ভাটোল ফাঁড়ির জেনারেল ডায়েরি, স্টেশন ডায়েরি, গ্রেফতার রেজিস্টার, হেফাজতের নথি এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
