ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-র বেসরকারিকরণ নিয়ে জল্পনা চলছেই। এর মধ্যেই শনিবার, ২৪ অক্টোবর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইসরো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনেই থাকবে। এই সংস্থার বেসরকারিকরণ হচ্ছে না। তবে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। তাঁর কথায়, পিএসএলভি (PSLV) বা জিএসএলভি (GSLV) রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ইসরোর বাজেটের প্রায় ৭৫ শতাংশই বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রে যায়।
চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ইসরো চেয়ারম্যান। সেখানেই তিনি বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি ৬৪ বছরের পুরনো। বর্তমানে দেশের ৫৬টি উপগ্রহ রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে হাজার হাজার উপগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে। সেই চাহিদা পূরণ করতে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির সাহায্য নেওয়া জরুরি।
ইসরো কেন বেসরকারি সংস্থা ও স্টার্টআপদের সাহায্য নিচ্ছে, তার আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রের ‘ভারতীয় মহাকাশ নীতি ২০২৩’-এর মধ্যে। সরকার চায় ভারতের মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থাগুলো আরও এগিয়ে আসুক এবং বড় ভূমিকা পালন করুক। আর এই লক্ষ্যপূরণে মেন্টর বা অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে ইসরো।
ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণনের মতে, এই যৌথ প্রয়াসের ফলে দেশের তিনটি বড় লাভ হবে। এক, ভারতের নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তি আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হবে। দুই, এই সেক্টরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে, যা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। এবং শেষ, তরুণ প্রজন্ম ও বিজ্ঞানীদের জন্য তৈরি হবে হাজার হাজার নতুন চাকরির সুযোগ।
এছাড়াও এদিন রকেট উৎক্ষেপণের বাজেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বেসরকারি সংস্থাগুলি আগে থেকেই ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে কাজ করছে। আগামী দিনে তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে ইসরোকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ইসরোর দাবি, বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়লেও মহাকাশ গবেষণায় সংস্থাটির ভূমিকা কমবে না। বরং, বেসরকারি সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক কাজের দায়িত্ব নিলে ইসরো ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান, গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরিতে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের প্রধান সংস্থা হিসেবেই কাজ করবে ইসরো।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য, বেসরকারি সংস্থাকে কাজের সুযোগ দেওয়া মানেই ইসরোকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া নয়। বরং, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দেশের মহাকাশ শিল্পকে আরও বড় করে তোলাই লক্ষ্য। সেই কারণেই এই উদ্যোগকে বেসরকারিকরণ না বলে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে ইসরো।
এ দিকে, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে চারটি কার্যকর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। তামিলনাড়ুর কুলশেখরপট্টিনমে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য প্রায় ২,০০০ একর জমিতে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। দেশে ও বিদেশে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ইসরো চেয়ারম্যান।
ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান গগনযানের প্রস্তুতিও চলছে। ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, এই অভিযানের রকেট এবং মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ক্রু এসকেপ সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। মহাকাশচারীদের নিরাপদে মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতিও এগোচ্ছে। তার আগে তিনটি মানববিহীন পরীক্ষামূলক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরীক্ষাগুলি সফল হলে পরবর্তী ধাপে মহাকাশচারীদের পাঠানো হবে। গগনযানের প্রস্তুতিতে এখনও পর্যন্ত মাটিতে প্রায় ৮,০০০টি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে চন্দ্রযান-৪ অভিযান ২০২৮ সালে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। পাশাপাশি, আগামী ৩০ অক্টোবর NVS-03 নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা যায়।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
