দিল্লিতে আন্দোলনরত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে আটক এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ আছড়ে পড়ল আন্তর্জাতিক স্তরে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোজ জনতা পার্টি ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত গণ-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ১০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্বখ্যাত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গবেষকরা। গত ১২ অক্টোবর তাঁদের স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করতে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই হার্ভার্ডের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ১০ অক্টোবর দিল্লির রাস্তায় যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ।
হার্ভার্ডের বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাদান ফারাসাতের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ফারাসাত হার্ভার্ড ল স্কুলের ২০০৯ সালের প্রাক্তনী। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিন এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীকে বেআইনিভাবে আটক করার হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে দিল্লি পুলিশ কর্তব্যরত আইনজীবী শাদান ফারাসাতের ওপর চড়াও হয়। তাঁকে কেবল হেনস্থাই করা হয়নি, বরং বেআইনিভাবে আটকও করা হয়। বিবৃতিদাতারা সতর্ক করে বলেছেন, আইনি সহায়তা দিতে যাওয়া একজন আইনজীবীকে যদি এভাবে বাধা দেওয়া ও আটক করা হয়, তবে তা দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের ওপর এক বড় আঘাত।
বিবৃতিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ২০২৫ সালের প্রাক্তনী ও মানবাধিকার সংগঠন ‘সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (CJP)-এর পলিসি হেড মেহের পারসিচাকে কেন্দ্র করে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ১০ অক্টোবর মেহের মূল বিক্ষোভস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। লক্ষ্মীনগর এলাকায় একটি বাজারে প্রাতরাশ করার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। এরপর দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা ধরে তাঁকে কোনো আইনি নথিপত্র বা আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই আটকে রাখা হয়। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আটক ব্যক্তির অধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে ভারত সরকার ও পুলিশের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন হার্ভার্ডের সঙ্গে যুক্ত ১০০ জন।
প্রথমত, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক করা ও তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে আটক করা হলে তাঁকে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগও দিতে হবে। তৃতীয়ত, পুলিশ বা প্রশাসনের কোনও আধিকারিক আইন ভেঙে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।


প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
