হয়তো হাসপাতালের কিছু জেনে ফেলেছিল ও”—অভয়া স্মরণ মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি মায়ের, “ধর্ষণ নয়, খুনই করেছে আমার মেয়েকে”

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

আরজি কর কাণ্ডের দু’বছর পূর্তিতে আজ রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হল ‘অভয়া স্মরণ’।  সকাল ১১টায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।  বিকেলে পানিহাটিতে আয়োজিত অভয়া স্মরণ মঞ্চে মেয়েকে স্মরণ করতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মেয়ের কথা বলতে গিয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, “হয়তো হাসপাতালের কিছু জেনে ফেলেছিল ও।” এরপরই কান্নাভেজা গলায় তাঁর দাবি, “ধর্ষণ নয়, খুনই করেছে আমার মেয়েকে।” মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা আজও যে তাঁর কাছে কতটা গভীর, তাঁর কথায় বারবার তা ফুটে ওঠে।

মেয়ের ছোটবেলার স্মৃতি মনে করে রত্না দেবনাথ বলেন, ছোট থেকেই তাঁর মেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত।  “মা, আমি ডাক্তার হব”—ছোট্ট মেয়ের সেই কথাই আজও তাঁর কানে বাজে।  মেয়ের সাজানো বাগানের দিকে তাকালেও আজও মেয়ের স্মৃতিই ফিরে আসে।  আবেগঘন হয়ে তিনি বলেন, “তোর সাজানো বাগান আজও।  ফুল ফুটেছে।”

মেয়ের পড়াশোনার দিনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। জানান, ছোটবেলায় স্কুলে ‘মাথা’ শব্দটি দিয়ে বাক্য রচনা করতে দেওয়া হলে তাঁর মেয়ে লিখেছিল, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা মাথা ছিল।” সেই স্মৃতি আজও মায়ের মনে গেঁথে রয়েছে

মেয়ের সঙ্গে কাটানো রাতগুলির কথা বলতে গিয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, “কত রাত মেয়ের সঙ্গে না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। আজও কাটে। বাকি জীবনও কাটবে।” মেয়ের নাম আর কোনওদিন আগের মতো করে নিতে পারবেন না—এই আক্ষেপও উঠে আসে তাঁর কথায়।

মেয়েকে হারানোর পর নিজের শূন্যতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখন আর আমাকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না, কারও ফেরার অপেক্ষায়।” দীর্ঘ দু’বছর পেরিয়ে গেলেও মেয়ের স্মৃতি, তাঁর হাসি, ছোটবেলার কথা—সবই যেন মায়ের কাছে এখনও জীবন্ত।

মেয়ের জন্য বিচার পাওয়ার লড়াই থেকে সরে আসেননি বলেও জানান রত্না দেবনাথ।  তাঁর কথায়, এই লড়াই শুধু তাঁর মেয়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতে আর কোনও মেয়েকে যেন এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেই আশাতেও।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।