সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বা ছোট ভিডিও বানিয়ে টাকা আয় তো অনেকেই করেন। কিন্তু এবার সরাসরি সরকারি টাকা উপার্জনের সুযোগ দিচ্ছে বিহার সরকার। রাজ্যের নানা নামী প্রকল্প যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের হয়ে ভিডিও বা রিল বানালেই মিলবে মোটা টাকা।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারের ভালো কাজগুলো যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে জানতে পারেন। আর এই কাজে সাহায্য করার জন্যই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
গতকাল ১৯শে আগস্ট (বুধবার) মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে হওয়া বিহার ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সংক্রান্ত “Bihar Social Media and Other Online Media Rules, 2026” নীতিমালায় একটি বড় সংশোধনী অনুমোদন করেছে।
কীভাবে মিলবে টাকা?
জানা গেছে, বিহার সরকারের যেকোনো বড় স্কিম বা খবরের ওপর বানানো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর ৩০ দিন পার হলে সেটির ভিউস গণনা করা হবে। ভিডিওটিতে প্রতি ১ লক্ষ ভিউসের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা করে ইনসেনটিভ বা বোনাস পাবেন।
১০ হাজার টাকার বেশি আয় করা যাবে কি?
হ্যাঁ। ভিউস যত বাড়বে, আয়ের পরিমাণও তত বাড়বে। কোনো একটি ভিডিওতে যদি ১০ লক্ষ বা তার বেশি ভিউস চলে আসে, তবে সেই একটি মাত্র ভিডিও থেকেই সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বোনাস পাওয়া যাবে।
কারা পাবেন এই সুযোগ?
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং বিহারের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. এই প্রকল্পের আওতায় ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স যে কোনো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলিতে। নিয়মিত ভিডিও তৈরি করে তাঁরাই এই আর্থিক সুবিধা পাবেন।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে (ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স) কমপক্ষে ২৫ হাজার ফলোয়ার বা সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
৪. এরজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে ক্রিয়েটর হিসেবে নাম নথিভুক্ত বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
৫. শুধু ভিউ বেশি হলেই টাকা মিলবে না; ভিডিওর কোয়ালিটি বা মান এবং সরকারের দেওয়া তথ্যের সঠিকতাও যাচাই করবে।
উল্লেখ্য যে, এই নীতিমালায় ক্যাবিনেটের অনুমোদন মিললেও সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নোটিফিকেশন বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই সরকার বিস্তারিত নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এই বিষয়ে সমস্ত নিয়মাবলি জানিয়ে দেবে।

