কর্নাটকে এইচআইভি আতঙ্ক! আক্রান্ত প্রায় ৭ হাজার কলেজ পড়ুয়া, সব কলেজে বিশেষ ক্যাম্পের নির্দেশ

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

কর্নাটকে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণকে ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।  সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যে প্রায় ৭ হাজার কলেজপড়ুয়া এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন।  আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।  এই তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কর্নাটক সরকার।  পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাধ্যতামূলকভাবে এইচআইভি সচেতনতা ও পরীক্ষামূলক ক্যাম্প চালুর নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (NACO)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার নিরিখে কর্নাটক বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।  রাজ্যে মোট প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন।  তাঁদের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৫ হাজার জন নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় থাকলেও প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ এখনও জানেনই না যে তাঁরা এইচআইভি সংক্রমিত।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অজানা সংক্রমণই ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০।  মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার ৬০০-তে। এই বৃদ্ধি স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কর্নাটক সরকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ জীবনযাপন, সংক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দিতে বিশেষ এইচআইভি সচেতনতা ক্যাম্প আয়োজন করা হবে।  পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় এইচআইভি পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এইচআইভি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় মানুষকে নিয়ে আসাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।  বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এইচআইভি ধরা পড়লেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।  বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে একজন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।  তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত শনাক্তকরণই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।