কলকাতা, ১০ মার্চ: টানা পাঁচ দিন টানটান উত্তেজনা আর রাজনৈতিক সংঘাতের পর অবশেষে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে , ১০ মার্চ ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধে ৫ দিনের এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৬ মার্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী ধরনায় বসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা যাতে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পান, তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিসহ একাধিক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘অ্যাপিলিয়েট ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে হবে এবং এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও কলকাতা হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায়কে হাতিয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “দিদি, যে দরজাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেটা আজ খুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। এটাই আপনার লড়াইয়ের বড় জয়।”
ধরনা প্রত্যাহারের মুহূর্তেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করতে ছাড়েননি অভিষেক। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাবি করেন, আদালতের কড়া অবস্থানের মুখে নির্বাচন কমিশন আজ কোণঠাসা। অভিষেকের কথায়, জ্ঞানেশ কুমার আজ ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। কমিশন ভেবেছিল যা খুশি করবে, কিন্তু আদালতের নির্দেশে আজ তাদের মাথা নিচু হয়েছে।
ধরনা তুলে নেওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে তৃণমূল একদিকে যেমন আদালতের ওপর আস্থা দেখাল, তেমনই নির্বাচনের আগে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে জনমত তৈরি করতে সফল হলো।

