নালসার-কাণ্ডে রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদল BCI-এর, মনন মিশ্রের ইস্তফা চাইল ককরোচ জনতা পার্টি! কে এই মনন কুমার, ঘটনার নেপথ্যে কী?

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

হায়দরাবাদের ঐতিহ্যবাহী ‘নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল’ এর ২০২৬ সালের আইন স্নাতকদের এনরোলমেন্ট বা আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিদ্ধান্ত তিনবার বদলে অবশেষে সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়া গুটিয়ে নিল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)।  ঘটনার জল এতদূর গড়ায় যে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা বিসিআই এর বর্তমান চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের ইস্তফার দাবি তুলে সোচ্চার হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

ঘটনার সূত্রপাত নালসার ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।  ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে।  কিন্তু ক্যাম্পাসের একাংশ পড়ুয়া এই আমন্ত্রণের বিরোধিতা করেন।  তাঁরা প্রধান বিচারপতির উপস্থিতি বয়কটের ডাক দিয়ে সমাজমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রচার চালাতে শুরু করেন।  বিষয়টি ভারতের বিচারব্যবস্থা ও আইনি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় আঘাত করেছে এমন অভিযোগ তুলে কঠোর পদক্ষেপ নেয় বিসিআই।

গত ১৩ আগস্ট বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র এক নির্দেশে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নালসারের ২০২৬ ব্যাচের কোনও পড়ুয়াকে দেশের কোনও বার কাউন্সিলেই আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট করা যাবে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই আন্দোলনের মূলে থাকা পড়ুয়া, শিক্ষক বা ছাত্র সংগঠনগুলির নামের তালিকা ও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে।

এই নির্দেশ সামনে আসতেই আইন অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।  অপরাধ না করেও কেন পুরো ব্যাচের কয়েকশো পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ এক লহমায় অনিশ্চিত করে দেওয়া হলো—তা নিয়ে সরব হন প্রবীণ আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষার্থীরা।  তোপের মুখে পড়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্দেশ সংশোধন করে বিসিআই জানায়, অধিকাংশ পড়ুয়াই এই বয়কট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।  তাই তাঁদের আইনজীবী হওয়ার পথ আটকানো হবে না এবং তাঁরা যেকোনো স্টেট বার কাউন্সিলে নাম এনরোলমেন্ট করতে পারবে।

তবে বিতর্ক এখানেই থামেনি।  পরিস্থিতি জটিল দেখে অবশেষে বিসিআই তৃতীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেয়, নালসারের ২০২৬ ব্যাচের কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধেই আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।  নালসার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল, তারও আর প্রয়োজন নেই।  পুরো প্রক্রিয়াটি সেখানেই ইতি টানা হলো।  বিসিআই প্রধান মনন মিশ্র সাফাই গেয়ে জানান, নির্দোষ পড়ুয়াদের ক্যারিয়ার যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই কারণেই বিসিআই পূর্ণাঙ্গ নমনীয়তা দেখিয়েছে।  একই সঙ্গে তরুণ আইনজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক পদের মর্যাদা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

এরই মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মনন মিশ্রের পদত্যাগ দাবি করে পোস্ট করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে শোরগোল শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মনন কুমার মিশ্র হলেন দেশের একজন সিনিয়র সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ভারতের সমস্ত আইনজীবী ও আইন শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) দীর্ঘকালীন চেয়ারম্যান।  তিনি আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত আছেন।  এবং বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) টিকিটে নির্বাচিত রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (Member of Parliament)।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।