রাজ্যজুড়ে চলমান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্যের ঘটনায় এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাজিকে নিয়ে অপপ্রচার বা আপত্তিকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার বা অপমানজনক মন্তব্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সাইবার সেলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাঁদের বলব, এই দুঃসাহস ভাল নয়। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ বিষয়টিকে ভালভাবে নিচ্ছে না। অবিলম্বে ক্ষমা চান। নিজেদের পোস্ট ডিলিট করুন। ডিলিট করলেই যে ছাড় পাবেন, তা নয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেফতারও করা হতে পারে। তবে কোন ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত পুলিশই নেবে। তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা অনন্ত মহারাজ। সম্প্রতি নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেতাজির ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনও অবদান ছিল না এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে তিনি অপব্যবহার করেছিলেন—এমন দাবি করেছেন অনন্ত মহারাজ।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ওঠে, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও কি একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন সকলের জন্য সমান।” নেতাজিকে নিয়ে এ ধরনের প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক পরিচয় বা রং না দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগেও অনন্ত মহারাজের একাধিকবার দাবি করে আসছেন, তিনি কোনও মনগড়া বা মিথ্যা কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য, তিনি নেতাজিকে বদনাম করেননি, বরং ইতিহাসের কথাই বলেছেন।

