চলতি শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের একাধিক ফার্মাসি ও বিএড কলেজে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিকাঠামো এবং শিক্ষার গুণমানের নিরিখে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় ৩৮টি বি-ফার্ম ও ডি-ফার্ম কলেজে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজকেও ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করায় ২৩৭টি বিএড কলেজকে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দাবি, চলতি শিক্ষাবর্ষের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামো, শিক্ষক, শিক্ষণ-পদ্ধতি এবং পড়ুয়াসংখ্যার উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ওই ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজ পড়ুয়া ভর্তির প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। একইভাবে যে ৩৮টি ফার্মাসি কলেজে ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে, তারাও চলতি শিক্ষাবর্ষে নতুন পড়ুয়া ভর্তি নিতে পারবে না।
শুধু বিএড নয়, রাজ্যের ফার্মাসি, পলিটেকনিক ও আইটিআই কলেজগুলির পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের গুণমান খতিয়ে দেখেও এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্যের ১৩৪টি বি-ফার্ম ও ডি-ফার্ম কলেজের মধ্যে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে চলতি শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। অন্য দিকে, রাজ্যের ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের ২৬৫টি আইটিআইয়ের মধ্যে পরিকাঠামোর অভাব থাকায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই ১৪টি আইটিআই প্রতিষ্ঠানও পড়ুয়া ভর্তি নিতে পারবে না।
অন্য দিকে, বেসরকারি বিএড কলেজগুলির হালহকিকত খতিয়ে দেখতে তিন দফায় পরিদর্শন করা হয়। প্রথম দফার পরিদর্শনের পর ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ১৫৬টি বিএড কলেজকে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, ৪৫১টি কলেজ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ওই কলেজগুলিকে ২১ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৯টি কলেজ আর পরিদর্শনের জন্য ফিরে আসেনি। বাকি ৪৪২টি কলেজের জবাবের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শন করা হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রথম দফায় যে পরিদর্শকরা গিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফায় তাঁদের একই কলেজে পাঠানো হয়নি। দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনে ৪৪২টি কলেজের মধ্যে ২৩৭টি কলেজ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে। গত ৪ নভেম্বর ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ওই ২৩৭টি কলেজকে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজকে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
কোন কোন ফার্মাসি কলেজে ভর্তি বন্ধ?
রাজ্যের ১৩৪টি বি-ফার্ম ও ডি-ফার্ম কলেজের মধ্যে যে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে, সেই কলেজগুলির তালিকা প্রকাশ পেলে এমডি ৩৬০ নিউজ ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কোন কোন বিএড কলেজে ভর্তি বন্ধ?
২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে যে ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজকে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেই কলেজগুলির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি (BSAEU)। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে কলেজগুলির নাম, কলেজ কোড এবং জেলার উল্লেখ রয়েছে। কোন কোন কলেজ এই তালিকায় রয়েছে, তা জানতে নিচের PDF বিজ্ঞপ্তিটি দেখে নিন।
কোন কোন বিএড কলেজে ভর্তি নেওয়া যাবে?
অন্য দিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে অধিভুক্তি পুনর্নবীকরণের জন্য যোগ্য ২৩৭টি বিএড কলেজের তালিকাও প্রকাশ করেছে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। এই কলেজগুলিকে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় কলেজগুলির নাম, কলেজ কোড এবং জেলার উল্লেখ রয়েছে। কোন কোন কলেজে বিএড কোর্সে ভর্তি হওয়া যাবে, তা জানতে নিচের PDF তালিকাটি দেখে নিন।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে শিক্ষাকে পণ্য করে তোলা এবং ডিগ্রি বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া রুখতে বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক ও ফার্মাসি কলেজগুলিতে পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের গুণমান যাচাইয়ে বিশেষ পরিদর্শন চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত যে পরিদর্শনের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দফতর। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রীর দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী বিকাশ ভবনে এসে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, শিক্ষাকে পণ্য হতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার গুণমান রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই নির্দেশ মেনেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া সংখ্যা এবং পঠনপাঠন ও শিক্ষণ-পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পড়ুয়া সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পঠনপাঠনের মান উন্নত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
