রাজ্য সরকারি কর্মীদের সময়ানুবর্তিতা এবং দপ্তরের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। এবার থেকে আর খাতায়-কলমে সই করে পার পাওয়া যাবে না, রাজ্য সরকারি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে আধুনিক ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’ ব্যবস্থা। সময়ের সামান্য এদিক-ওদিক হলেই কাটা যাবে ক্যাজুয়াল লিভ (CL) বা চাইল্ড কেয়ার লিভ (CCL)। গত ২ রা জুন অর্থ দপ্তরের অডিট ব্রাঞ্চ থেকে এই সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশিকা (মেমো নম্বর: ১৯৬১-এফ(এইচ) জারি করেছেন অর্থ সচিব প্রভাত মিশ্র।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১৫ই জুন থেকেই রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে কর্মরত সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য এই নতুন ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু হয়ে যাচ্ছে। এরপর আগামী ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত সরকারি অফিসেও এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়মের বাইরে থাকবে শুধুমাত্র দপ্তরের প্রধান বা ‘হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট’ (HOD)। এ ছাড়া বাকি সমস্ত সরকারি কর্মীকে অফিসে ঢোকার (Arrival) এবং বেরোনোর (Departure) সময় নির্দিষ্ট ডিভাইসে মুখ দেখিয়ে হাজিরা নথিভুক্ত করতে হবে।
নতুন সরকারের এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এবার থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস শুরুর সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিট। ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দিলে তা ‘দেরি’ বা ‘লেট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া কোনো কর্মী যদি সকাল ১১টার পর অফিসে আসেন, তবে ফেস রিকগনিশন যন্ত্রে তাঁর হাজিরা আর নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে ওই দিন তিনি সরাসরি ‘অনুপস্থিত’ (Absent) বলে বিবেচিত হবেন। নির্দেশিকায় এও বলেছে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়লে তা ‘আর্লি ডিপার্চার’ বা সময়ের আগে প্রস্থান হিসেবে ধরা হবে।
জানা গেছে, একই দিনে কোনো কর্মী দেরিতে এলেন এবং আবার ৫টা ১৫ মিনিটের আগেই চলে গেলেন এমনটা হলে তাঁকে ‘অফিসে অনুপস্থিত’ ধরে সরাসরি একদিনের ক্যাজুয়াল লিভ (CL) কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া, একটি ক্যালেন্ডার মাসে কোনো কর্মী যদি মোট ৩ দিন দেরিতে আসেন কিংবা আগে চলে যান, তবে শাস্তিস্বরূপ তাঁর ১ দিনের সিএল (CL) বা সিসিএল (CCL) কাটা যাবে। এমনকি অফিস থেকে বেরোনোর সময় হাজিরা রেকর্ড না করলেও ওই দিনটি অনুপস্থিতি হিসেবেই গণ্য করবে।
তবে সরকারি কাজে বাইরে থাকলে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে । সরকারি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা দফতরের কাজের কারণে যদি কোনও কর্মীর যাতায়াতে দেরি হয় বা আগে বেরোতে হয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন ।
পাশাপাশি নির্দেশিকায় পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুলস (WBSR Part-I)-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আপদকালীন বা জরুরি প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীদের অফিস সময়ের বাইরেও কাজ করতে হতে পারে।

