ইউটিউবে ভিডিয়োর জনপ্রিয়তা মাপার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত মাপকাঠি ‘ভিউ’। একটি ভিডিয়ো কত জন দেখেছেন, তা বোঝার প্রথম সূত্র হিসাবেই সাধারণত চোখে পড়ে সেই সংখ্যা। এ বার সেই ভিউ গোনার নিয়মেই বড় বদল আনছে ইউটিউব। আগামী ২৪ অগস্ট থেকে কোনও ভিডিয়ো চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি পাবলিক ভিউ হিসাবে গণনা করা হবে। অর্থাৎ ভিডিয়োর প্রথম ফ্রেম চালু হলেই ভিউ যোগ হতে পারে।
১৭ অগস্ট প্রকাশিত এক ঘোষণায় ইউটিউব জানিয়েছে, এত দিন বিভিন্ন ধরনের ভিডিয়োর ক্ষেত্রে ভিউ গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্য ছিল। শর্টসের জন্য যে ধরনের পদ্ধতি আগে থেকেই চালু ছিল, এ বার সাধারণ ভিডিয়োর ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে। ইউটিউবের বক্তব্য, এর ফলে ক্রিয়েটরদের কাছে তাঁদের ভিডিয়ো কত বার দর্শকের সামনে চালু হয়েছে, তার হিসাব আরও স্পষ্ট হবে।
সাধারণ ভিডিয়োর ক্ষেত্রে এত দিন কোনও দর্শক ভিডিয়োতে ঢুকলেই সেটিকে সরাসরি পাবলিক ভিউ হিসাবে ধরা হত না। ভিউ গণনার ক্ষেত্রে ইউটিউবের একাধিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং যাচাই প্রক্রিয়া কাজ করত। ঠিক কত ক্ষণ ভিডিয়ো দেখলে একটি ভিউ হিসাবে গণনা করা হয়, সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা ইউটিউব প্রকাশ্যে জানায়নি।
নতুন ব্যবস্থায় সেই হিসাব অনেকটাই সরল হচ্ছে। দর্শক ভিডিয়োতে ক্লিক করার পর ভিডিয়ো চালু হলেই একটি পাবলিক ভিউ যোগ হতে পারে। ফলে কেউ ভিডিয়ো চালু করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেরিয়ে গেলেও সেই ভিডিয়োর পাবলিক ভিউ সংখ্যায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা যেতে পারে। ২৪ অগস্টের পর কোনও কোনও চ্যানেলের ভিডিয়োর ভিউ আগের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু সেই বাড়তি ভিউকে সরাসরি ভিডিয়োর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়া বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ধরা যাক, কোনও ভিডিয়ো ১ লক্ষ দর্শক চালু করলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ হাজার জন যদি ভিডিয়ো শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেন, নতুন নিয়মে তাঁরাও পাবলিক ভিউয়ের হিসাবে চলে আসতে পারেন। ফলে ভিউয়ের সংখ্যা বেশি হলেও দর্শক যে ভিডিয়োটি দীর্ঘ সময় ধরে দেখেছেন, এমনটা বলা যাবে না। এই কারণেই নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পরে শুধু ভিউ সংখ্যা দেখে ভিডিয়োর সাফল্য বিচার না করার পরামর্শই কার্যত দিচ্ছে ইউটিউব।
ক্রিয়েটরদের জন্য ইউটিউব অ্যানালিটিক্সে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ‘এনগেজড ভিউ’-এর মতো পরিসংখ্যান। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, ভিডিয়ো চালু হওয়ার পর দর্শক কতটা সময় সেটি দেখেছেন এবং কনটেন্টের সঙ্গে কতটা যুক্ত থেকেছেন। অর্থাৎ সামনে থেকে দু’টি বিষয় আলাদা করে দেখা যাবে—এক দিকে কত বার ভিডিয়ো চালু হয়েছে, অন্য দিকে সেই ভিডিয়ো দর্শক কতটা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন।
ফলে ভিডিয়োর প্রকৃত পারফরম্যান্স বুঝতে অডিয়েন্স রিটেনশন, গড় দেখার সময়, মোট ওয়াচ টাইম এবং ভিডিয়োর কত শতাংশ দর্শক দেখেছেন এই পরিসংখ্যানগুলিও নজরে রাখা জরুরি হবে।
ভিউ বাড়লেই কি আয়ও বাড়বে?
এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা রয়েছে। ইউটিউব স্পষ্ট করেছে, পাবলিক ভিউ গণনার নিয়ম বদলালেও তার অর্থ এই নয় যে ক্রিয়েটরদের আয় একই হারে বেড়ে যাবে।
কোনও ভিডিয়োর পাবলিক ভিউ নতুন নিয়মে ১ লক্ষ থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার হলে আয়ও ৩০ শতাংশ বাড়বে এমন কোনও হিসাব করা যাবে না। কারণ আয়ের ক্ষেত্রে দর্শকের এনগেজমেন্ট, ওয়াচ টাইম এবং অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠি গুরুত্বপূর্ণ।

