কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১টি শিশু, ২ জন মহিলা এবং ৬ জন পুরুষসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বাংলাদেশি নাগরিক।  বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) গভীর রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ থেকে ২টোর মধ্যে হোটেলের তিনতলায় এই আগুন লাগে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মৃতদের শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন মেলেনি বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান।  তাঁদের ধারণা, এয়ার কন্ডিশনার (AC) এর শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার পর হোটেলের ভিতরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তীব্র বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ (Suffocation) হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়, তদন্ত চলছে। আগুনের সঙ্গে সঙ্গে ঘন ধোঁয়া হোটেলের ঘরগুলিতে ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে হোটেলের ভিতরে প্রবেশ করে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।  এছাড়া আরও অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং ১ জন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।  লাশ শনাক্তকরণের পর দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং আহতদের সহায়তার জন্য দূতাবাস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর নিউ মার্কেট থানার পুলিশ হোটেলটি ঘিরে ফেলেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। হোটেলের মালিক বর্তমানে পলাতক।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বয়ানে উঠে এসেছে সেই রাতের ভয়াবহতার ছবি।  চারতলার বাসিন্দা নাজমুল জানান, হোটেলের গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায় এক হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না।  মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনওরকমে তাঁরা ছাদে পৌঁছন।  তাঁদের বক্তব্যে আরও সামনে এসেছে, বহুতল ভবনটিতে একাধিক হোটেল থাকলেও ওঠানামার জন্য ছিল মাত্র একটি সরু লোহার সিঁড়ি; কোনও জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না।  পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যেও পাসপোর্ট বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নেন কৌসর হোসেন। ঘুমন্ত অবস্থায় হোটেলকর্মীরা দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পর তাঁরা কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে এলেও পরে পাসপোর্টের কথা মনে পড়ে যায়।  এরপর ধোঁয়ায় ভরে থাকা হোটেলের ভিতরে ফের প্রবেশ করেন কৌসর যা এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়া মানুষের অসহায়তা এবং হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির ছবিই প্রকাশ পায়।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।