কলকাতা, ৬ মার্চ ২০২৬: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং হাজারো ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়েছে বিতর্ক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে ঝুলে থাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে রাজনৈতিক মহলে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এমনকি, এই ইস্যুকে সামনে রেখে আজ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের সামনে ধর্না ও অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভোটার তালিকায় এই বেনিয়মের দায় এবার সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর চাপাল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, বুথ লেভেল অফিসার (BLO), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) থেকে শুরু করে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) স্তরে স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের গাফিলতির কারণে এই বিপত্তি ঘটিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এই SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্যের মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারকে রাখা হয়েছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন ক্যাটাগরিতে। মূলত তথ্যের অমিল বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণেই এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কমিশনের দাবি, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করার ক্ষেত্রে BLO-দের উদাসীনতা এবং নথিপত্র মূল্যায়নে ERO ও AERO-দের অসংবেদনশীল মনোভাবই এই বিপুল সংখ্যক ডিলিশন (Deletion)-এর মূল কারণ। এছাড়া প্রশাসনিক স্তরে সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবই এই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
উল্লেখ্য,নির্বাচন কমিশন আরও জানান কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেননি আধিকারিকরা। ফলে বহু ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে আপলোড হয়নি এবং সেই কারণেই অনেকের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

