কলকাতা, ১৫ মার্চ: ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে এতদিনের জল্পনার আজ অবসান ঘটতে চলেছে। আজ রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।
দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে কমিশনের ফুল বেঞ্চ এই ঘোষণা করবে। ভোট কবে হবে, তা জানানো মাত্রই সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে নির্বাচনী নিয়ম বা আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়ে যাবে।
তবে বাংলায় ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই ইতিমধ্যে বড়সড় এক জটিলতা তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চললেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় থাকলেও তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ৫০০-র বেশি জুডিশিয়াল অফিসার এই নামগুলোর সত্যতা যাচাই করছেন।
সাপ্লিমেন্টারি’ বা পরিপূরক তালিকা কবে প্রকাশিত হবে সে বিষয়ে সঠিক উত্তর নেই এখনও পর্যন্ত । তাই এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে নতুন নাম তোলা বা সংশোধনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়তে পারে। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ নামের যাচাই পর্ব শেষ হয়েছে। কিন্তু যদি বাকি নামগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয় এবং চূড়ান্ত সাপ্লিমেন্টারি বা পরিপূরক তালিকা প্রকাশে দেরি হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের বুথ বা সিরিয়াল নম্বর জানতে পারবেন না। এটি ভোটের ও সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, বিচারকদের রায়ে যারা তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন, তাঁদের জন্য উপযুক্ত আপিল করার ব্যবস্থা বা ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকায় বিষয়টি বড় আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভোটের দফার ক্ষেত্রেও এবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২১ সালে আট দফায় নির্বাচন হলেও, এবার রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে কমিশন পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ দুই বা তিন দফায় নির্বাচন করাতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলি আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়াও জানা যায়, মে ও জুন মাসে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, বাংলা নববর্ষের আবহেই রাজ্যে ভোটের দামামা বাজতে পারে। সেই হিসেবে ১৪ এপ্রিলের পর থেকেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আজ বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলনে সেই ব্লু-প্রিন্ট এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে কমিশন কী জানায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে।


