রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না-বাজতেই নবান্নের শীর্ষ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। নজিরবিহীন পদক্ষেপ করে সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনা-কে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত এই দুই আমলা ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। মূলত এই রদবদলের মাধ্যমে কমিশন আসলে বুঝিয়ে দিল আগামী দেড় মাস বাংলার শাসনদণ্ড থাকবে দিল্লির কড়া নজরদারিতেই।
কমিশনের পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপসারিত নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস (IAS) অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালা। এর আগে তিনি রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তর এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের নতুন প্রধান সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের অভিজ্ঞ আধিকারিক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ-কে। ইতিপূর্বে তিনি নারী ও শিশু কল্যাণ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন।
আজ, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টের মধ্যেই নতুন এই দুই আধিকারিককে কাজে যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি কমিশনকে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
সূত্রমতে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি। ভোটার তালিকা সংশোধনের তথা এসআইআর এর কাজে অনিয়মের অভিযোগে চারজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন, কিন্তু নবান্ন তা করেনি। এছাড়াও বসিরহাটের বিডিও-র কাজে অস্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কয়েকজন আইএএস (IAS) অফিসারকে বদলি না করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নবান্নের ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ ছিল কমিশন। বারবার সতর্ক করার পরেও রাজ্য প্রশাসনের তরফে সহযোগিতা না মেলায় শেষ পর্যন্ত মুখ্য ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিলো।
উল্লেখ্য, রবিবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের ফুল বেঞ্চ ঘোষণা করেছে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। এবং তাঁর ফল প্রকাশ হবে ২ মে।


