ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি চললেও বরাবরের মতো ব্যতিক্রমী ছবি দেখা গেল কেরালায়। এই ক্ষেত্রে কেরালা রাজ্যে ও তামিলনাড়ুর কিছু এলাকায় ঈদের জন্য চাঁদ দেখার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না।
দেশজুড়ে যখন শনিবার ঈদের অপেক্ষা, তখন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্য এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশে আজ শুক্রবার ২০ মার্চ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
মূলত এর পেছনে প্রধানত যে কারণ কাজ করে তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ভৌগোলিক অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ২০২৬ সালে সৌদি আরবে ১৮ মার্চ চাঁদ দেখার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদের ঘোষণা করলে। শেষমেষ কেরালাও সেই পথ অনুসরণ করেছে।
ভৌগোলিক অবস্থান বিচারে সৌদি আরব ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সূর্যাস্ত ভারতের তুলনায় পরে হয়। নিয়ম অনুসারে, সূর্যাস্ত যত দেরিতে হয়, নতুন চাঁদ দিগন্তের তত উপরে ওঠার এবং উজ্জ্বল হওয়ার সুযোগ পায়। ভারতের মূল ভূখণ্ডে যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন চাঁদ প্রায়ই দিগন্তের এত নিচে থাকে যে তা খালি চোখে দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু কেরালা ভারতের একদম দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এবং সমুদ্রতীরবর্তী খোলা আকাশ থাকায় সেখানে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
তবে ভৌগোলিক কারণের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করে কেরালার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর গভীর আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক। কেরালার একটি বিশাল সংখ্যক মুসলিমরা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে কাজ করে। এই কারণেই কেরালায় সৌদি আরবের চাঁদ দেখা বা ঈদের ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
যেখানে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হায়দ্রাবাদের চাঁদ দেখা কমিটিগুলো নিজেরাই চাঁদ দেখার ওপর জোর দেয়, সেখানে কেরালা ও তামিলনাড়ুর চাঁদ দেখার কমিটিগুলো প্রায়শই সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ঈদের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। এই কারণেই ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে আগামীকাল শনিবার ঈদ পালিত হলেও, কেরালায় আজ শুক্রবারই উদযাপন হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

