রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে চলা মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, “কেউ যদি এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে তিনি চিরদিনের জন্য ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলবেন।” তবে আদালতের এই আশ্বাসের পরেও পাল্টা এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসছে— যদি সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কোনো নাগরিক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তবে সেই ব্যর্থতার দায় কার? এই চরম প্রশাসনিক গাফিলতির দায় কি নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে? বর্তমানে এই প্রশ্নের কাঁটাতেই বিদ্ধ হচ্ছে কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন (Under Adjudication) অবস্থায় রয়েছে।
এছাড়াও এদিন কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৪৭.৪ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনও রয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তির কাজ। তবে দেখা যাচ্ছে এই নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারের মধ্যে বহু সংখ্যক নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
যদিও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ পড়লে, তাঁদের জন্য ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কমিশন।
এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আগামী ৭ই এপ্রিল পুনরায় এই আবেদনগুলি নিয়ে শুনানি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত। তবে এই মামলার অন্যতম আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কেবল যান্ত্রিক হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, ঠিক কী কারণে সেই পদক্ষেপ করা হলো, তা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যদিকে, যাঁরা তালিকায় নাম তোলার দাবিতে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন, তাঁদেরও নিজেদের দাবির সপক্ষে সঠিক কারণ ও যুক্তি দর্শাতে হবে। অর্থাৎ, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দুই পক্ষকেই জবাবদিহি করতে হবে ট্রাইব্যুনালের কাছে।

