রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচন কমিশনের তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা পিটিশনের শুনানি হতে চলেছে আগামী সোমবার।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই SIR -এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটারের প্রায় ১১.৯ শতাংশ বা ৯১ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ বা ডিলেট করে দেয়। গত বৃহস্পতিবার কমিশন এই তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ’ করে দেয়।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, এর ফলে যাদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে বা যাদের আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না? এছাড়াও ট্রাইব্যুনাল তাঁদের ‘পাস’ করালেও যদি ভোটার তালিকা ফ্রিজ থাকার কারণে তাঁরা ভোট দিতে পারবেনা।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ লাইন’ বা সময়সীমা থাকে ঠিকই, কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভোট দেওয়া একটি স্থায়ী সাংবিধানিক অধিকার।” এছাড়াও এদিন অভয় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ‘কাউকে স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।’
আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৩ এপ্রিল (সোমবার) এই আবেদনের বিস্তারিত শুনানি হবে। ওইদিনই স্পষ্ট হবে যে,
বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে কি না। পাশাপাশি তাঁরা কি ভোট দিতে
পারবেন ?
রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে শেষ ধাপে যাচাই করে বাদ দেওয়া প্রায় ২৭ লক্ষ নামের মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৪.৫ লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনায় বাদ পড়েছে ৩.২ লক্ষ এবং মালদাতে ২.৩ লক্ষ ভোটারের নাম। মূলত এই জেলাগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটার এর নাম বাদ গেছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলায় ভোট হতে চলেছে দুই দফায় ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। এর ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।

