রাজনীতির আঙিনায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যসভা থেকে সদ্য অবসর নেওয়ার পর তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য মাসিক পেনশন তিনি নেবেন না। গত ১৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই ইচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তিনি।
২০২০ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২ এপ্রিল। বর্তমানে তিনি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। গত ৮ এপ্রিল মনোনয়ন পেশ করার সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে উঠে এসেছে তাঁর বিপুল অর্থ ও সম্পত্তির খতিয়ান।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সিপিআইএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের আর্থিক ও সম্পত্তির খতিয়ান বেশ বৈচিত্র্যময়। তাঁর হাতে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা। প্রবীণ এই আইনজীবীর নামে স্থায়ী আমানত ও পিপিএফ-সহ মোট সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেও, স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকে তিনি কার্যত ‘ভূমিহীন’; কারণ তাঁর নিজের নামে কোনও বাড়ি বা জমিও নেই। তবে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ নেহাত কম নয় সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ তহবিলের। তাঁর ব্যবহারের জন্য দু’টি গাড়ি রয়েছে, যার একটি ২০১৫ সালে কেনা এবং অন্যটি ২০২৫ সালে সংগৃহীত আধুনিক বিলাসবহুল ‘অডি’।
পাশাপাশি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের হলফনামায় তাঁর স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের সম্পত্তির যে খতিয়ান মিলেছে, তা-ও বেশ উল্লেখযোগ্য। ইভা ভট্টাচার্যের নামে বর্তমানে মোট চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪৯ টাকা। এছাড়া তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৬০০ গ্রাম সোনার গয়না, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। তবে বিকাশ রঞ্জনের নিজের নামে কোনো বাড়ি না থাকলেও, তাঁর স্ত্রীর নামে দু’টি বাড়ি রয়েছে যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা। এছাড়াও তাঁর স্ত্রী তাঁর কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

