ভারতের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু না হলেও, প্রাক্তন আম আদমি পার্টির (AAP) তরুণ মুখ লোকসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগ দেওয়াটা ভারতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই যোগদানের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তায় যে ধস নেমেছে, তা এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
শুক্রবার পর্যন্ত রাঘব চাড্ডার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১৪.৬ মিলিয়ন (প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ)। কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই সেই সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। বিকেল নাগাদ তা এসে দাঁড়ায় ১৩.৩ মিলিয়ন-এ। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনেই প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ তাঁকে ‘আনফলো’ করেছেন।
রাঘব চাড্ডার প্রতি মানুষের এই ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো তাঁর অতীতের কট্টর বিজেপি-বিরোধী ভাবমূর্তি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে তিনি সবসময় বিজেপির কড়া সমালোচনা করে এসেছেন। এছাড়া তিনি নিজেকে একজন শিক্ষিত এবং আধুনিক মনস্ক রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, যিনি বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ঘোর বিরোধী। আজ সেই দলেই যোগ দেওয়াটাকে তাঁর অনুগামীরা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে ও পরে দেখা গিয়েছে, রাঘবের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে প্রায় ১৭০ থেকে ২০৯টি পুরোনো পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এই পোস্টগুলোর বেশিরভাগই ছিল বিজেপি এবং মোদী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে লেখা। নেটিজেনরা বলছেন, নিজের অতীতের মন্তব্য লুকাতেই তিনি এই ‘সাফ-সুতরো’ অভিযান চালিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাঘব চাড্ডার অনুগামীদের মধ্যে একটা বড় অংশই ছিল আজকের যুগের ছেলেমেয়েরা। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের ছোটখাটো কিন্তু জরুরি সমস্যা নিয়ে কথা বলতেন। যেমন—বিমানবন্দরে একটা সিঙ্গাড়ার আকাশছোঁয়া দাম, ডেলিভারি বয়দের কাজ বা ১০ মিনিটে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চাপের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরব হয়ে তিনি তরুণদের খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। এমনকি ডেলিভারি বয় সেজে কাজ করেও তিনি সবার মন জয় করেছিলেন।
শুধু রাঘব একাই নন, তাঁর সঙ্গে আপ-এর মোট ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্বাতী মালিওয়াল এবং হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট নামগুলোও।

