ভোটের ময়দানে ‘দাবাং’ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার দাপট বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, তাতে বড়সড় মোড় এল। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করতে চাইল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত কোনও আধিকারিকের পদক্ষেপে তাঁরা বাধা দেবেন না। এরফলে এই পর্যবেক্ষণের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা-কাণ্ডে কার্যত বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল।
এ দিন মামলার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করব না। যাঁদের ওপর নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাজে আমরা এখন বাধা দেব না।” মূলত, ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতের এই অনাগ্রহের ফলে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে জোরালো দাবি শাসকদল তুলেছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেল।
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে কড়া ভাষায় ধমক দিচ্ছেন। আঙুল উঁচিয়ে প্রার্থীর বাড়িতে গিয়েই তাঁকে উদ্দেশ্য করে বাড়ির লোকদের সামনে বলতে শোনা যায়, “জাহাঙ্গিরকে শুধরে যেতে বলুন, না হলে পরে কাঁদতে হবে।” একজন সরকারি আধিকারিক হয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে এভাবে শাসানো নিয়ে গর্জে ওঠে তৃণমূল। এদিন MCC ভঙ্গের অভিযোগে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।
