আজ বাংলায় ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হলেও এখনই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বিদায় নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। বরং ভোট-পরবর্তী সম্ভাব্য অস্থিরতা ও হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান থাকবেন। গত ১৯শে মার্চের এক বিশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী জানানো হয়েছে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) পশ্চিমবঙ্গেই মোতায়েন থাকবে। কমিশনের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কেবল ভোট শান্তিতে করানোই নয়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
সাধারণত ভোট মিটে গেলেই ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ছাড়তে শুরু করে। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলোর পরিস্থিতির উপর বিচার করে এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। এই ৫০০ কোম্পানির বিশাল বাহিনীর মধ্যে বড় অংশ জুড়ে থাকছে সিআরপিএফ (CRPF), যার ২০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিএসএফ-এর ১৫০ কোম্পানি এবং সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি থেকে ৫০ কোম্পানি করে জওয়ান থেকে যাচ্ছে রাজ্যে।
বুধবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি বিজ্ঞপ্তির ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কাল থেকেই রাজ্য থেকে বাহিনী তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে মহুয়া মৈত্রের এই দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা দ্রুত নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের পরেও রাজ্যে মোতায়েন থাকছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কমিশন সূত্রে খবর, এই ৭০০ কোম্পানির মধ্যে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ (CISF), আইটিবিপি (ITBP) এবং এসএসবি (SSB)-র জওয়ানরা থাকছেন। এর মধ্যে ৫০০ কোম্পানি জওয়ান সরাসরি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিযুক্ত থাকবেন এবং বাকি ২০০ কোম্পানি বাহিনী ইভিএম (EVM) ও স্ট্রং রুমের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে।

