মেয়ের চাকরি-কাণ্ডে মুখ পুড়ল বাবার! মেখলিগঞ্জে দধিরামের কাছে রেকর্ড ভোটে হার পরেশ অধিকারীর

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

মেখলিগঞ্জ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে সবথেকে বড় ওলটপালট।  নিজের গড়ে ধুলিসাৎ তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতা পরেশ চন্দ্র অধিকারী।  শেষ পর্যন্ত যখন ফল ঘোষণা হলো, দেখা গেল বিজেপির দধিরাম রায় পেয়েছেন ১,০৪,৭৭৬টি ভোট, আর পরেশ থমকে গিয়েছেন ৭৫,৯৭২-এ।  বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায়ের কাছে প্রায় ২৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলেন প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মেখলিগঞ্জের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে উন্নয়নের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘নৈতিকতা’।  বিরোধীদের প্রচারের মূল হাতিয়ারই ছিল পরেশ-কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর সেই অবৈধ নিয়োগ-বিতর্ক।  প্রভাব খাটিয়ে মেধাতালিকার তলানি থেকে মেয়েকে এক লাফে শীর্ষে তুলে আনা এবং হাইকোর্টের নির্দেশে সেই চাকরি চলে যাওয়া এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ পরেশ অধিকারীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।

এ দিন জয়ের পর দধিরাম রায়কে অনুগামীদের কাঁধে চেপে আবির খেলায় মাততে দেখা যায়।  তিনি বলেন, “এটা শুধু আমার জয় নয়, মেখলিগঞ্জের সেই সব যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জয়, যাঁদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।” অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জের পোড়খাওয়া নেতা পরেশ অধিকারীকে এ দিন বেশ বিমর্ষ দেখিয়েছে।  এছাড়াও তিনি কাউন্টিং সেন্টার থেকে আগেই বেরিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, এক সময়ের দুঁদে ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা হিসেবে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের রাজপাট তৈরি করেছিলেন পরেশ চন্দ্র অধিকারী।  বাম জমানার দাপুটে মন্ত্রী হিসেবে মেখলিগঞ্জ ছিল তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা।  পরবর্তীকালে রাজনৈতিক ভোল বদলে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান তিনি, পান মন্ত্রিত্বও।  কিন্তু দল বদলালেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগ এবং মেয়েকে অনৈতিকভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কলঙ্ক তাঁকে পিছু ছাড়েনি।  বাম আমলের সেই দাপট থেকে তৃণমূলের মন্ত্রিত্ব দীর্ঘ যাত্রাপথের শেষে আজ ইভিএমের রায়ে পরেশবাবুর সেই রাজনৈতিক দুর্গের পতন হলো।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।