আরজি কর কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় আবারও বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হলো। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের পর এবার এই স্পর্শকাতর মামলা থেকে সরে দাঁড়াল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার মামলার শুনানি শুরু হতেই বিচারপতি মান্থা স্পষ্ট জানান, সময়ের অভাবের কারণেই তিনি এই মামলাটি আর শুনতে পারছেন না। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন যা বর্তমানে তাঁর বেঞ্চের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি পুনরায় প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে বেরোনোর সময় নির্যাতিতার মা অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।”
এদিনের শুনানিতে সিবিআই এর তদন্তের ভূমিকা নিয়ে আদালতে তীব্র বাদানুবাদ চলে। সিবিআই একটি মুখবন্ধ খামে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করলেও নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর প্রশ্ন, সিবিআই কেন এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাকে ‘গণধর্ষণ ধারায় মামলা করেনি? ময়নাতদন্তের রিপোর্টে থাকা ১০টি ক্ষতচিহ্নের কথা কেন চেপে যাওয়া হয়েছে? এমনকি ঘটনার দিন ওই তলায় ঘোরাফেরা করা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কেন এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না এই সব প্রশ্ন তুলে সিবিআই-এর সদিচ্ছাকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, সিবিআই এর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন যে, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে। প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ এবং ১৪ জন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিবিআই নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একজনের দ্বারাই সংঘটিত অপরাধ। তবে শিয়ালদহ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁরা মূল অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি নিয়ে অনড় রয়েছেন।
এরই মধ্যে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন নিয়ে। বিচারপতি মান্থা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার সম্ভবত এই মামলার তদন্তে একটি কমিশন গঠন করতে চলেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, একের পর এক বিচারপতির মামলা ছেড়ে দেওয়া এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে আরজি করের নির্যাতিতা কি আদৌ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন? এখন পরবর্তী শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি কোন বেঞ্চ গঠন করেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
