ধর্মীয় আচার যেন কোনোভাবেই জনজীবনে বাধার পাহাড় হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। সোমবার নবান্নে সভাঘরে জেলাশাসক ও উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাস্তা আটকিয়ে জমায়েত কিংবা লাউডস্পিকারের দাপট আর মুখ বুজে সইবে না প্রশাসন। এবার আমজনতার দুর্ভোগ কমাতে একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেন তিনি।
জানানো হয়েছে, এবার থেকে মন্দির, মসজিদ বা যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লাউডস্পিকারের শব্দ যেন শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট চত্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রকাশ্যে ও ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত সীমার বাইরে লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না। পাশাপশি শব্দের তীব্রতা যাতে সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে জনজীবন ব্যাহত না করে। সেদিকে পুলিশকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। শব্দদূষণ রোধে এবং আশেপাশের মানুষের শান্তি বজায় রাখতেই এই নিয়ম জারি করেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও এবার থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে রাস্তায় নমাজ পাঠ বা যে কোনো ধর্মীয় আচার পালনেও জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, রাস্তা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য, সেখানে কোনোভাবেই বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। তবে বিশেষ বিশেষ বড় উৎসবে যদি আগে থেকে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া থাকে, তবেই রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলতে পারে।
এই নিয়ম শুধু মাত্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং নাগরিক শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই ‘ইউনিফর্ম সিভিক রুল’ বা
সবার জন্য করা হয়েছে।
এবিষয়ে নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসির ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আইন যদি সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয়, তবে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তারা এই নিয়ম অবশ্যই মেনে চলবেন। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারির মতে, উপাসনা একান্তই ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক বিষয়; কোনো ধর্মই উচ্চকণ্ঠ লাউডস্পিকার ব্যবহারকে ধর্মীয় আবশ্যকতা নেই।

