২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ওএমআর শিট জালিয়াতি কিংবা সাদা খাতা জমা দিয়ে যারা এতদিন বেআইনিভাবে চাকরি করছিলেন, তাঁদের প্রাপ্ত বেতন ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরিজীবন জুড়ে পাওয়া সমস্ত বেতনের টাকা এখন বার্ষিক ১২ শতাংশ সুদ-সহ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
জানা গেছে, জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) দেওয়া তালিকা মিলিয়ে প্রতিটি অযোগ্য প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মূলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সেই ঐতিহাসিক রায়, যেখানে প্রায় ২৫,৭৩৫ জনের চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুধুমাত্র জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ‘দাগী’ প্রার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে; সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
এতদিন অযোগ্য প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতন ভোগ করেছেন, যা একটি গুরুতর আর্থিক অপরাধ। তাই শুধুমাত্র কর্মচ্যুতি নয়, বরং বেআইনিভাবে নেওয়া জনগনের অর্থ সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এক-একজন অযোগ্য প্রার্থীকে তাঁদের চাকরির মেয়াদ ও পদ ভেদে অনুযায়ী প্রায় ১১ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত দিতে হতে পারে।
জানা গেছে যদি কোনো চিহ্নিত অযোগ্য ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন, তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ঘরবাড়ি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম করে সেই টাকা উদ্ধার করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
