বকরি ঈদে কুরবানি এবং ১৯৫০ সালের ‘পশু সংরক্ষণ আইন‘ কড়াভাবে চালু করা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে নবগঠিত সরকারের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, আর অন্যদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবির এই দুই নেতার মধ্যকার কথার লড়াই এখন বাংলার রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুরবানির ওপর সরকারি কড়াকড়ি নিয়ে হুমায়ুন কবিরের এক মন্তব্যের জবাবে এ দিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁকে সরাসরি দেশ ছাড়ার কথা বলেছেন। আর এই নিয়েই রাজ্যজুড়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বিতর্কের শুরুটা হয় রাজ্য সরকারের একটি নতুন নির্দেশিকা নিয়ে। আসন্ন কোরবানির ঈদে পশু জবাইয়ের ওপর কিছু কড়া নিয়ম জারি করেছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশু চিকিৎসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ সার্টিফিকেট বা অনুমতি ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। ১৯৫০ সালের পুরনো সরকারি আইনকে পুরোপুরি মেনে চলার জন্যই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই নতুন নিয়মের পর থেকেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
এই সরকারি নিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কুরবানির সঙ্গে আমরা কোনও সমঝোতা করব না। বিশ্বের মুসলমানরা কুরবানি করবেই। এটা মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব, ত্যাগের উৎসব। এই ধর্মীয় আচারে কেউ বাধা দিতে পারে না। কুরবানি করা মুসলমানদের অধিকার এবং তা নিয়ম মেনেই হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রায় চৌদ্দশো বছরের ধর্মীয় নিয়ম মেনে এবারও কুরবানি দেওয়া হবে এবং কোনো সরকারি নির্দেশ একে থামাতে পারে না।
হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আসরে নামেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কড়া ভাষায় জানান, ভারতে থাকতে হলে এ দেশের এবং এই রাজ্যের আইন সবাইকে মেনে চলতেই হবে। আইন সবার জন্যই সমান।
হুমায়ুন কবিরকে সরাসরি আক্রমণ করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “হুমায়ুন কবির সাহেবকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, বাংলায় থাকতে হলে বাংলার নিয়ম মেনেই চলতে হবে। যদি এখানকার নিয়ম আপনার পছন্দ না হয়, তবে এই রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন। এমনকি এ দেশের আইন মানতে আপত্তি থাকলে ভারতের বাইরে কোনো ইসলামিক দেশেও চলে যেতে পারেন।“
এছাড়াও এ দিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “গো-হত্যার সাথে কোনো ধর্মীয় পরম্পরা বা ধর্মের সম্পর্ক নেই“।

