চব্বিশের লোকসভা নয়, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতেই বিরাট আইনি ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারের ময়দানে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে করা তাঁর একাধিক কড়া আক্রমণ এবার ব্যুমেরাং হয়ে ফিরল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হুমকি’ এবং বিজেপি কর্মীদের ‘জল্লাদ’ সম্বোধন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। রাজ্য পুলিশের ইতিহাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম ফৌজদারি মামলা, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিলের এক জনসভা থেকে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ৪ তারিখের পর বিজেপিকে বাঁচাতে দিল্লি থেকে কোন ‘বাবা’ আসে তা তিনি দেখে নেবেন। বাগুইআটির বাসিন্দা তথা সমাজকর্মী রাজীব সরকারের অভিযোগ, এই ধরণের চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য সমাজে দাঙ্গা ছড়াতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
পুলিশের দায়ের করা মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬ এবং ৩৫১/২ ধারাগুলি সম্পূর্ণ জামিন অযোগ্য। অর্থাৎ, এই মামলায় ফেঁসে গিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় বিপাকে পড়তে পারেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
শুধু রাজ্য পুলিশই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ ও ১২৫ নম্বর ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনী আচরণবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছেন তিনি। এই ঘটনার পরেই ঘটনার পরেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় দাবি তুলেছেন, “আজ রাতের মধ্যেই অভিষেককে গ্রেপ্তার করা উচিত।”
