রাজ্যের রেল যোগাযোগ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একযোগে তিনটি বড় প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত ও থমকে থাকা এই প্রকল্পগুলির বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পৃথক তিনটি চিঠির মাধ্যমে রেলের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।
অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলির তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইনে ডাবল ট্র্যাক বা জোড়া লাইন পাতার কাজ, পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান রুটে তৃতীয় রেললাইন তৈরির চূড়ান্ত সমীক্ষা এবং রাজস্থানের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতে একটি নতুন দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল পুরো রাজ্যের রেল ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এতদিন ধরে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ ঠিক না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো হয়ে উঠেনি। এবার নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে শিলিগুড়ি (SGUJ) পর্যন্ত ৭.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনের ডাবল লাইনের কাজের অনুমোদন দিয়েছে রেল মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যস্ত রুটে ট্রেনের চাপ বাড়লেও সিঙ্গেল লাইনের কারণে ট্রেন চলাচলের গতি ব্যাহত হতো। ডাবল লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে উত্তরবঙ্গে রেলের সময়ানুবর্তিতা বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
দ্বিতীয় বড় ঘোষণাটি হলো কলকাতা থেকে খড়্গপুর হয়ে রাজস্থানের জয়পুরের (খাতিপুরা) মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৮০৬১/১৮০৬২ নম্বরযুক্ত ‘সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চালু হলে দক্ষিণবঙ্গের একটি বড় অংশের মানুষ, বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা সরাসরি এবং স্বাচ্ছন্দ্যে রাজস্থান যাতায়াত করতে পারবেন।
এ ছাড়া, পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে গতি আনতে শালবনি থেকে আদ্রা পর্যন্ত ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে তৃতীয় লাইনের (3rd Line) কাজের ছাড়পত্র মিলেছে। এই প্রকল্পের বিস্তারিত কার্যবিবরণী বা ‘ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট‘ (DPR) তৈরির উদ্দেশ্যে ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ (FLS) করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রক। এই রুটটি শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তৃতীয় লাইনটি তৈরি হলে মালবাহী ট্রেনের চাপ কমবে এবং যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি অনেক দ্রুত ও সময়মতো চলাচল করতে পারবে।
