অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা কবে থেকে উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এরই মধ্যে প্রকল্পের আবেদনপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আবেদন প্রক্রিয়া এবং উপভোক্তা তালিকা তৈরির কাজ সরাসরি তদারকি করতে ২২ জন সিনিয়র আইএএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। প্রতিটি জেলাকে ২ জুনের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।
জানা গিয়েছে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্ভাব্য উপভোক্তাদের আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি তথ্যের অভাব বা প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই তৎপরতার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি সত্যিই ৩ জুন থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে? যদিও এ বিষয়ে মূখ্যমন্ত্রী গতকাল এক বৈঠকে জানিয়েছে ২ তারিখের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করে ভেরিফিকেশন এর কাজ সম্পন্ন হলে তবেই মিলবে ৩ তারিখে টাকা। তবে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগোনো সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী কলকাতা পুরসভার দায়িত্বে রয়েছেন প্রভাত কুমার মিশ্র, উত্তর ২৪ পরগনায় বিনোদ কুমার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ওঙ্কার সিং মিনা। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরুণ কুমার রায়কে। এছাড়া নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি-সহ প্রতিটি জেলার জন্য পৃথক আইএএস আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।


