ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় প্রাণ হারালেন তিন ভারতীয় নাবিক। সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের ওপর আমেরিকার জলপথ অবরোধ ভেঙে তেল পরিবহনের অভিযোগে মার্কিন নৌবাহিনী ওই জাহাজে হামলা চালায়। যার ফলে এই ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
ওই ট্যাঙ্কারে থাকা মোট ২৮ জন ক্রুর মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় ক্রু-সদস্য ছিলো যার মধ্যে ৩ জন নিহত ও ২১ জন অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আদিত্য শর্মা (ডেক ক্যাডেট), শিবানন্দ চৌরাশিয়া (ইঞ্জিন ফিটার) এবং পাতনালা সুরেশ (চিফ ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে এ দেশের নাবিককূলের এক ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
জানা যাচ্ছে, প্রায় সমান্তরালভাবে হরমুজ প্রণালীতে ‘এমটি জলবীর’ নামে অপর একটি ভারতীয় জাহাজের ওপরেও হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন গোলার আঘাতে সেই জাহাজের ইঞ্জিন রুমেও দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আবহে যখন গোটা দেশ এমনিতেই বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক জলপথে এমন জোড়া আগ্রাসন এ দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তাকে এক চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও এদিন এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিউ দিল্লি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন উপ-মিশন প্রধান (Deputy Chief of Mission) জেসন মিক্স-কে সরাসরি সাউথ ব্লকে তলব করে এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

