এবার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের পথে চলতে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL)। রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়িতে এই স্মার্ট মিটার বসানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং আর্থিক ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এই স্মার্ট মিটারগুলি প্রাথমিকভাবে পোস্ট-পেইড হিসেবে বসানো হবে। তবে গ্রাহকরা চাইলে পরবর্তীতে তা প্রি-পেইড ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করে নিতে পারবেন। স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে আগে থেকে রিচার্জ করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকে, তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার জন্য বেশ কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক পোস্ট-পেইড ও প্রিপেইড আসলে কি?
পোস্ট-পেইড বলতে এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে আমরা এতদিন যেভাবে বিদ্যুৎ খরচ করতাম। অর্থাৎ, পুরো মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পর শেষে বিল আসত এবং সেই বিল আমরা পরে শোধ করতাম।
অপরদিকে, প্রিপেইড এটি মোবাইলের রিচার্জের মতো। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহার করার আগেই আপনাকে টাকা রিচার্জ করতে হবে। মিটারে টাকা থাকলে তবেই বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, স্মার্ট মিটারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা কমাতে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে WBSEDCL। মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না; গ্রাহকরা ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ ব্যালেন্সের সুবিধা পাবেন। এছাড়া, রবিবার, সরকারি ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু থাকবে। স্মার্ট মিটারের রিচার্জ এবং বিদ্যুৎ খরচের যাবতীয় তথ্য জানার জন্য WBSEDCL এর নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা সহজেই সব হিসাব হাতের মুঠোয় রাখতে পারবেন। স্মার্ট মিটার বসানোর আগে পুরনো বকেয়া ইলেকট্রিক বিল মিটিয়ে ফেলতে হবে।
আগামী ১ আগস্ট থেকে এই সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। বকেয়া বিল শোধের জন্য গ্রাহকদের সামনে দুটি পথ খোলাও রেখেছে, আপনি চাইলে WBSEDCL এর পোর্টাল থেকে বিল ডাউনলোড করে একবারে পুরো টাকা মিটিয়ে দিতে পারেন। এছাড়াও ৩০০ দিনের মধ্যে কিস্তির মাধ্যমে টাকা মেটাতেও পারেন।
বিদ্যুৎ দপ্তর জানিয়েছে, এই স্মার্ট মিটার প্রাথমিকভাবে পোস্ট-পেইড হিসেবে বসানো হবে এবং পরবর্তীকালে গ্রাহক চাইলে তা প্রি-পেইড ব্যবস্থায় পরিবর্তিত করতে পারবেন।

