রাজনৈতিক জীবনে বহু লড়াই দেখেছেন, বহু সংকটও পেরিয়েছেন। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, অনেকেই তাঁর মৃত্যুকামনা করছেন বলে অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে তিনি বলেন, তাঁকে ফোন করে কেউ কেউ বলছেন, “ক’দিন আর বাঁচবে!” তবে এসব মন্তব্যে তিনি ভেঙে পড়েন না, বরং আগের মতোই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
এ দিন মমতা বলেন, “আমি কিন্তু কখনও উতলা হই না। হাসিমুখে সংকট কাটিয়ে যাওয়ার লোক আমি। ছাত্র রাজনীতি থেকেই আমার পথচলা। সংগ্রামই আমার জীবন। যতদিন বেঁচে থাকব, সংগ্রাম করেই লড়াই করব।” এরপরই তিনি অভিযোগ করেন, “শুনছি কেউ কেউ আমার মৃত্যুকামনা করছেন। ফোন করে বলছেন, ‘ক’দিন আর বাঁচবে!’ কিন্তু আমি এখনও অনেকদিন বেঁচে আছি। আমার পরের প্রজন্ম, তারও পরের প্রজন্ম বেঁচে থাকবে।”
বক্তব্যে দলত্যাগীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, দুর্দিনে যাঁরা দলের পাশে থাকেন, তাঁরাই তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি। আর যাঁরা দলের প্রতীকে জিতে পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা এই প্রতীকেই জিতে এসেছেন। আজ বিদ্রোহী! নির্বাচনের আগে তো কোনও বিদ্রোহ ছিল না। ১৫ বছর বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী ছিলেন। তখন তো আমাকে কিছু বলেননি।”
মমতা আরও দাবি করেন, বিজেপির গ্রেফতারের আশঙ্কায় একসময় তাঁর বিরোধিতাকারী নেতারাও মাঝরাতে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ১০ দিন নিজের বাড়িতে রেখে খাইয়েছি-দাইয়েছি, যাতে আদালতে বিচার পাওয়ার সুযোগ হয়। আমার কোনও রাগ বা ক্ষোভ নেই। তারা ভালো থাকুক, তাদের পরিবার ভালো থাকুক।”
