কলকাতা: সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী এবং রাষ্ট্রগীত “বন্দে মাতরম্” এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার আগামী দিনে ‘ভূমি জিহাদ‘, ‘লাভ জিহাদ‘ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি বিজেপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি জানান।
অনুপ্রবেশ রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন‘ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের নিজ নিজ উৎসস্থলে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এছাড়াও এদিন তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘ভূমি জিহাদ‘ ও ‘লাভ জিহাদ‘ প্রসঙ্গে। তিনি জানান চৈতন্যদেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় এই ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়গুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ রোধেও রাজ্য সরকার নতুন আইন আনবে বলে জানান।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বিজেপি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অটল রয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীর মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, “ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা উচিত নয়।” কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এর আওতায় যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দেশ, সেনাবাহিনী বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

