মহিলা সাংসদদের অপমানের অভিযোগে বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলে বাড়ল অস্বস্তি

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদের ঘটনায় শোরগোল পড়েছে।  তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুরের সাংসদ ও দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।  মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে আপত্তিকর ও নারীবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে।  সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন মেঘাওয়াল সাসপেনশনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং পরে লোকসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

বুধবার অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই লোকসভার ভিতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) র একাধিক সাংসদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।  অভিযোগ, একসময় তৃণমূলে থাকা এবং বর্তমানে NCPI তে যোগ দেওয়া শতাব্দী রায়, মিতালী বাগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ কয়েকজন সাংসদকে উদ্দেশ্য করে তিনি কটাক্ষ করেন এবং কিছু আপত্তিকর শব্দও ব্যবহার করেন।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিনিময় হয়।

ঘটনার পর মিতালী বাগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ NCPI-র সাংসদরা স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানান।  পরে স্পিকারের নির্দেশে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।  অভিযোগে দাবি করা হয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য মহিলা সাংসদদের মর্যাদাহানিকর এবং সংসদের শালীনতার পরিপন্থী।  অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই স্পিকার তাঁকে চলতি বাদল অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন।

সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি বলেন, “আমি আমার বক্তব্যে অনড়।  প্রয়োজনে সংসদের বাইরে থাকব, কিন্তু যাদের আমি বিশ্বাসঘাতক মনে করি, তাদের কাছে মাথা নত করব না।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অস্বস্তি বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।  উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিনই কলকাতার ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সভায় বক্তব্যের সময় নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লোকসভা থেকে তাঁর সাসপেনশন দলকে আরও চাপে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম।  সেই পরিস্থিতিতে দলের অন্যতম প্রধান বক্তা ও মুখ্য সচেতক হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি সংসদে দলের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।