দিল্লির যন্তর-মন্তরে শুরু হওয়া নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবার ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার রাস্তায়ও। শুক্রবার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শহরে একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠন মিছিলের ডাক দেয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও একই ইস্যুতে রাস্তায় নামে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিনের শেষে সব কর্মসূচির কেন্দ্র ছিল ধর্মতলা।
শুক্রবার দুপুরে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেস কলেজ স্ট্রিটের বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মিছিল করে। অন্যদিকে, এসএফআই-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত পদযাত্রা করে। পুলিশের অনুমতি না মেলায় আলাদা কর্মসূচি বাতিল করে CJP ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিলে যোগ দেয়। ফলে শহরের দুই প্রান্ত থেকে আলাদা আলাদা মিছিল এসে মিলিত হয় ধর্মতলা চত্বরে।
এই আন্দোলনের আবহে কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠন জানিয়েছে, তারা তিনটি মূল দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। তৃতীয়ত, ছাত্রসমাজের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া। সংগঠনের দাবি, এই দাবিগুলি থেকে তারা কোনওভাবেই সরে আসবে না।
অন্যদিকে, CJP-ও একই দাবিতে অনড় রয়েছে। কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি। সংগঠনের দাবি, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বর্তমান ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে দিল্লির আন্দোলনও ক্রমশ আরও বড় আকার নিচ্ছে। যন্তর-মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। অনশন কর্মসূচি শেষ করলেও সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের দাবিগুলির প্রতি সমর্থন জানিয়ে গিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরেও বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তের ছাত্র-যুবরাও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
শুধু দিল্লি বা কলকাতাই নয়, কেরল, বিহার, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যেও নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের দাবি, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবিও উঠছে।
এদিনের মিছিল ঘিরে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। কলেজ স্ট্রিট, মহাত্মা গান্ধি রোড, বউবাজার, বি.বি. গাঙ্গুলি স্ট্রিট, এস.এন. ব্যানার্জি রোড, এসপ্ল্যানেড ও ধর্মতলা এলাকায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় আগে থেকেই সতর্কতা জারি করে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

