দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও সরকারি পরীক্ষার বর্তমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ কাঠামো তৈরি করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলি খতিয়ে দেখে সংস্কারের জন্য সুপারিশ করবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আগামী দিনে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িত অনেক অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই জেলে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পরীক্ষায় দুর্নীতির মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে, যাতে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের জন্য আরও কড়া শাস্তি ও সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা করাই সরকারের লক্ষ্য নয়, ভবিষ্যতে যাতে পরীক্ষায় কোনও ধরনের অনিয়ম না হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, পরীক্ষাপদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির মতো ঘটনা রোধ করা যায়। সেই লক্ষ্যেই প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, এই টাস্কফোর্সে নন্দন নিলেকানি ছাড়াও ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ, আইবির প্রাক্তন পরিচালক তপন ডেকা, আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি. কামাকোটি, প্রাক্তন শিক্ষাসচিব অনিতা কারওয়াল এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অমৃত লাল মিনা-সহ একাধিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তাঁরা বিশেষ করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পরীক্ষাপদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে সুপারিশ করবেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলা সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পর্যালোচনা এবং অন্যান্য কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভিডিও বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি।

