নিজের দেশ বাংলাদেশে এখনও ফিরতে পারেননি। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর আবারও কলকাতায় পা রাখলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আজ শুক্রবার ৩১ জুলাই সকালে দিল্লির বাসস্থান থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
কলকাতায় রওনা হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তসলিমা লেখেন, “আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই কলকাতায় ফেরা নিয়ে তাঁর অনুরাগী ও পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন ট্রাস্ট’ এর উদ্যোগে আয়োজিত ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতেই কলকাতায় এসেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তসলিমা বলেন, “দীর্ঘদিন পর কলকাতায় পা রাখা আমার কাছে কেবল অন্য কোনো শহরে আসা নয়, বরং নিজের ঘরে ফেরার মতো অনুভূতি।”
তিনি আরও বলেন, এই প্রত্যাবর্তন কোনো ব্যক্তিগত বিজয়ের প্রতীক নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা। তাঁর কথায়, “ফতোয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একজন লেখককে সাময়িকভাবে কোনো জায়গা থেকে দূরে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও লেখাকে কখনো থামিয়ে রাখা যায় না।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কিছুদিন বসবাসের পর ২০০৪ সালে ভারতের ভিসা পেয়ে কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে ঘিরে বিতর্ক ও বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে কলকাতা ছাড়তে বলে। তারপর থেকে তিনি মূলত দিল্লিতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ ভিসায় বসবাস করে আসছেন।
প্রায় দুই দশক পর তাঁর এই কলকাতা প্রত্যাবর্তন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

