বন্দেমাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক? মাদ্রাসার নির্দেশ ঘিরে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চাইল হাইকোর্ট

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসার প্রাতঃসভায় বন্দেমাতরম গাওয়ার নির্দেশিকা ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।  এই নিয়মটি অপরিহার্য কি না, তা স্পষ্ট করতে কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।  আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং এর আগেই কেন্দ্রকে তাদের দলিলে সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সম্প্রতি রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে যেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে সকালের প্রার্থনায় বন্দেমাতরম গাওয়ার কথা ঘোষণা করার।  পরে সমাজকর্মী সৌরভ দত্ত এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন। মামলাটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করেন যে, গানটি গাওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছে হওয়া উচিত এবং কাউকে জোর করা হলে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী হতে পারে।  অন্যদিকে, শুনানির সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান যে আবেদনকারী ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কেন্দ্রের বক্তব্য না জেনে আদালত কেন হস্তক্ষেপ করবে।  আদালত আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ না দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই নির্দেশ না মানার কারণে ভবিষ্যতে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা আদালতের নজরে আনা যেতে পারে।  পাশাপাশি বিচারপতি মন্তব্য করেন যে খ্রিস্টান পরিচালিত স্কুলেও প্রতিদিন প্রার্থনা হয় এবং অন্য ধর্মের প্রার্থনা শুনলেই কেউ ধর্ম থেকে বিচ্যুত হন না।

কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী জানান যে মামলাটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং বন্দেমাতরমকে জনপ্রিয় করতেই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, কাউকে জোর করা হয়নি।  আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেন যে অল্পবয়সি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দিকটি মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয় দেখা উচিত।  সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট কেন্দ্রকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের অবস্থান জানার পরই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।