চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন অভিষেক, তিন সপ্তাহের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।  সোমবার তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।  শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে অভিষেকের বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কোথায় চিকিৎসা করাবেন, তা বেছে নেওয়ার অধিকার একজন ব্যক্তির রয়েছে।  একই ভাবে বিদেশে যাওয়ার অধিকারও রয়েছে তাঁর।  শুধু কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, এই কারণ দেখিয়ে তাঁকে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানো থেকে আটকানো যায় না।

তবে বিদেশ যাওয়ার আগে অভিষেককে তাঁর সফর এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে দিতে হবে।  আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কোথায় যাচ্ছেন, কবে যাবেন, কবে ফিরবেন, কোন বিমানে যাতায়াত করবেন, বিদেশে কোথায় থাকবেন এবং কোন চিকিৎসক বা হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন এই সব তথ্য জানাতে হবে। অভিষেকের দেওয়া তথ্য গোপন রাখার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

এর আগে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক।  সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।  হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানায়, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আগে চিকিৎসকদের মতামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।  হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করাতে হবে । সেখানে চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চোখ পরীক্ষা করে জানাবে, বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করার প্রয়োজন রয়েছে কি না। চিকিৎসকেরা যদি জানান, কলকাতায় এই চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসা করানো জরুরি, তা হলে সেই মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেছিল আদালত।

কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে চান না। এরপরই তাঁর বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

হাই কোর্টের সেই নির্দেশের পর ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।  এর আগে এই মামলায় শীর্ষ আদালত হাই কোর্টকেই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছিল।  সেই নির্দেশ অনুযায়ী হাই কোর্টে ফের শুনানি হয়।  কিন্তু সেখানে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না মেলায় অভিষেক শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়।

এ দিন সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আপত্তি জানায় রাজ্য।  রাজ্যের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।  অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে।  তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি আর দেশে না-ও ফিরতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।  বিদেশে গেলে চলমান তদন্তে সমস্যা হতে পারে বলেও আদালতে জানানো হয়।

রাজ্যের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ।  তাঁর বক্তব্য, অভিষেক দেশের একজন সাংসদ। তাঁর কাছে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট রয়েছে।  তিনি একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানও রয়েছেন।  ফলে বিদেশে চিকিৎসা করাতে গেলে তিনি আর দেশে ফিরবেন না এমন আশঙ্কার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই বলে আদালতে জানান তিনি।  এরপর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অভিষেকের বিদেশযাত্রায় অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট।  বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, একজন ব্যক্তি কোথায় চিকিৎসা করাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।  একই ভাবে, বিদেশে যাওয়ার অধিকারও প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ অভিষেকের বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।  তবে বিদেশে কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় থাকবেন এবং কোথায় চিকিৎসা করাবেন এই সংক্রান্ত সব তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।

আদালতে অভিষেকের আইনজীবী জানান, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনও পাসপোর্ট নেই।  এই বিষয়টিও হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে অভিষেককে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।