নেতাজিকে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলার অভিযোগের পরই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ, প্রয়োজনে গ্রেফতারের কথাও জানানো হয়েছিল। সেই আবহেই এবার সুর বদল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের। এদিন মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ।
ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন,
নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
সম্প্রতি জলপাইগুড়ির ফুলবাড়িতে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (GCPA)-এর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনন্ত মহারাজ। প্রকাশ্য মঞ্চে সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
ওই সভায় অনন্ত মহারাজ প্রশ্ন তোলেন, “নেতাজিকে কে নেতা বানাল? কিসের নেতা?” এরপরই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে নেতাজির কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি দেশের স্বাধীনতার জন্য নেতাজি লড়াই করেননি, বরং দেশের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরেছিলেন—এমন দাবিও করেন বিজেপি সাংসদ।
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে সমালোচনা শুরু হয়। রাজবংশী সম্প্রদায়ের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিও যৌথভাবে প্রতিবাদ জানান।
এই প্রতিবাদে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডা. জয়ন্ত রায়, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য নিখিলচন্দ্র রায় এবং আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী মহেন্দ্রনাথ রায়-সহ আরও অনেকে।
এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে কোনও রকম রেয়াত না করার বার্তা দেওয়া হয়। পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নির্দেশের কথাও জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরই এবার অনন্ত মহারাজের ভিডিও বার্তা সামনে এল। যদিও নিজের দুঃখপ্রকাশের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক চাপ বা আইনি পদক্ষেপের সরাসরি যোগের কথা তিনি বলেননি।

