অতিবৃষ্টির জেরে তিলডাঙা ও নিউ ফরাক্কার মাঝে রেললাইনে ধস নামার পর থেকেই বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিষেবা। বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের ধারে মাটি সরে যায়। এর ফলে লাইনের একটি অংশ বসে যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এর জেরে একের পর এক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আবার কিছু ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। অনেক দূরপাল্লার ট্রেন আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে চলছে। ফলে বৃহস্পতিবার রাতেও সমস্যায় পড়েছেন বহু যাত্রী।
রেলের তরফে প্রকাশ করা নতুন আপডেট অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বরও একাধিক ট্রেন বাতিল থাকবে।
৪ সেপ্টেম্বর যে ট্রেনগুলি বাতিল, রেলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর বাতিল করা হয়েছে—
১. ১৩৪৩১ — এনডিএই–বালুরঘাট এক্সপ্রেস
২. ২২৩০১ — হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেস
৩. ১৩০৬৩ — হাওড়া–বালুরঘাট এক্সপ্রেস
৪. ১৩০৫৩ — হাওড়া–রাধিকাপুর এক্সপ্রেস
৫. ২২৩০২ — নিউ জলপাইগুড়ি–হাওড়া এক্সপ্রেস
ফলে ৪ সেপ্টেম্বর এই ট্রেনগুলিতে যাঁদের যাত্রা করার কথা ছিল, তাঁদের নতুন করে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে।
এই ট্রেনগুলঝ বাতিল হয়নি, ঘুরপথে চলবে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস। তবে ১৩১৪৭ শিয়ালদহ–বামনহাট উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়নি। রেলের নতুন আপডেট অনুযায়ী, নিউ ফরাক্কার কাছে লাইনে ধসের কারণে এই ট্রেনটি ঘুরপথে চালানো হবে।
অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস চলবে, তবে আগের নির্ধারিত পথে নয়। ঘুরপথে চলার কারণে ট্রেনটি দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।
শুধু ১৩১৪৭ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস নয়, আরও কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনকেও ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।
বহু ট্রেন চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে। ধসের কারণে ইতিমধ্যেই বহু ট্রেনের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। কোনও ট্রেন পাঁচ ঘণ্টা, আবার কোনও ট্রেন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলছে।
দার্জিলিং মেল প্রায় ৫ ঘণ্টা, পদাতিক এক্সপ্রেস প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা, রাঁচি–কামাখ্যা এক্সপ্রেস প্রায় আড়াই ঘণ্টা, কামাখ্যা–কর্ণভূমি এক্সপ্রেস প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং আগরতলা–হামসফর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রায় ১২ ঘণ্টা দেরিতে চলছে বলে জানা গিয়েছে।
এর ফলে ট্রেনের ভিতরেই দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। কেউ কেউ রাতের পর রাত যাত্রার মধ্যে আটকে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। স্টেশনে গিয়েও সমস্যায় যাত্রীরা, হঠাৎ ট্রেন বাতিল এবং দেরির খবর পেয়ে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনেও বহু যাত্রীকে ট্রেনের খবর জানতে এনকোয়ারি কাউন্টারে ভিড় করতে দেখা যায়।
স্টেশনে বার বার ঘোষণা করে কোন কোন ট্রেন বাতিল হয়েছে তা জানানো হচ্ছে। জায়ান্ট স্ক্রিনেও দেওয়া হচ্ছে তথ্য। কিন্তু অনেক যাত্রী আগেই স্টেশনে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
অনেকের আবার পরের দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। ফলে ট্রেন বাতিল বা দীর্ঘক্ষণ দেরি হওয়ায় তাঁরা কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছবেন, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।
দ্রুত লাইন ঠিক করার চেষ্টা, রেলের কর্মীরা ধসের জায়গায় কাজ শুরু করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব রেললাইন ঠিক করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে লাইন পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে না বলেই রেলের তরফে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনেও আরও কিছু ট্রেন বাতিল বা ঘুরপথে চালানো হতে পারে।
নলহাটি (NALHATI) – আজিমগঞ্জ (AZIMGANJ) – নিউ ফারাক্কা (NEW FARAKKA) হয়ে ঘুর পথে (DIVERSION) নিচের ট্রেনগুলি চলাচল করবে বলে জানা গেছে,
১. 22611 চেন্নাই সেন্ট্রাল – নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেস (Chennai Central – New Jalpaiguri Express) – যার যাত্রা শুরুর তারিখ: ০২.০৯.২০২৬
২. 20610 তিরুচিরাপল্লী – নিউ জলপাইগুড়ি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (Tiruchchirapalli – New Jalpaiguri Amrit Bharat Express) – যার যাত্রা শুরুর তারিখ: ০২.০৯.২০২৬
৩. 16523 এসএমভিটি বেঙ্গালুরু – বালুরঘাট এক্সপ্রেস (SMVT Bengaluru – Balurghat Express) – যার যাত্রা শুরুর তারিখ: ০২.০৯.২০২৬
৪. 12509 এসএমভিটি বেঙ্গালুরু – গুয়াহাটি এক্সপ্রেস (SMVT Bengaluru – Guwahati Express) – যার যাত্রা শুরুর তারিখ: ০২.০৯.২০২৬

