দুর্গাপুজো ২০২৬ কে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানাল রাজ্য সরকার। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন বৈঠকে পুজোর আয়োজন, মণ্ডপ, বিসর্জন, শব্দদূষণ এবং সরকারি অনুমতি নিয়ে একাধিক বিষয় স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এগুলিকে শুধুমাত্র ‘বিধিনিষেধ’ হিসেবে না দেখে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে হবে।
এবারের পুজোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে ডিজে নিয়ে কড়া অবস্থান। পুজোর মণ্ডপের পাশাপাশি বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও ডিজে বাজানো যাবে না। উৎসবের আনন্দের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
এবার মহালয়া বা দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যাবে না। পিতৃপক্ষ চলাকালীন পুজোর উদ্বোধন না করার নির্দেশের কথাও বৈঠকে জানানো হয়েছে। ফলে পুজো কমিটিগুলিকে উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করার সময় বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
এছাড়াও মণ্ডপ তৈরির জন্য জাতীয় সড়ক বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না। কলকাতার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খোলা রাখার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিএল খান রোড, রেড রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, খিদিরপুর রোড, বর্ধমান রোড, হসপিটাল রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট, লেনিন সরণি, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড।
পুজোর প্রতিমা, মণ্ডপ কিংবা থিমে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। দুর্গাপুজোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।
এবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জন শেষ করার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং বিসর্জন ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নিরঞ্জন শেষ করার কথা জানানো হয়েছে।
মহাঅষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বারেও মদ বিক্রি করা যাবে না। ফলে মহাঅষ্টমীর দিন রাজ্যে ‘ড্রাই ডে’ থাকবে।
নতুন করে দুর্গাপুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনও সার্বিক নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। তবে জমির অনুমতি, অগ্নি-নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর অনুমতি দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়গুলি যাচাই করবে।
এবার দুর্গাপুজোর পর কার্নিভাল আয়োজন করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। পুজো কমিটিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
পুজোর সরকারি অনুদান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। ছোট পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে সক্ষম ও বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলির জন্য বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ ছাড়ের কথাও জানানো হয়েছে। এবং আরও জানানো হয়েছে, এবারের দুর্গাপুজোয় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ডিজে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। শুধু পুজোর মণ্ডপেই নয়, বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও ডিজে বাজানো যাবে না।

