রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে কারিগর ও শিল্পীদের হাতে শংসাপত্র, প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট, ঋণের নথি এবং টুলকিট তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলা দরকার। বিশ্বকর্মা যোজনা ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ নতুন করে দেশজুড়ে চালু হচ্ছে না। এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। রাজ্যে চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে আবেদন যাচাই ও নথিভুক্তির কাজ শুরু হয়।
বিশ্বকর্মা যোজনা কী?
সহজ কথায় বলতে গেলে, যাঁরা নিজের হাতে কাজ করে জীবিকা চালান এবং ঐতিহ্যবাহী কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাজ আরও ভালোভাবে চালাতে সাহায্য করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। কামার, কুমোর, ছুতোর, স্বর্ণকার, নাপিত, ধোপা, দর্জি, রাজমিস্ত্রি, মালাকার, চর্মকার-সহ মোট ১৮ ধরনের পেশার কারিগর ও শিল্পী এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। এই প্রকল্পে সরকারি পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ, টুলকিট, ঋণ এবং বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মতো একাধিক সুবিধা রয়েছে।
কী কী সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্পে আওতায় প্রথমে যোগ্য কারিগরকে PM বিশ্বকর্মা সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড (ID Card) দেওয়া হয়। যাতে তারা তাঁর পেশার সরকারি স্বীকৃতি তৈরি হয়। এরপর দক্ষতা যাচাইয়ের পর ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত টুলকিট ইনসেন্টিভ দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে কাজের প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম কেনা যায়। এছাড়াও রয়েছে ৫ থেকে ৭ দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রশিক্ষণে শুধু হাতের কাজ নয়, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্ট, ব্যবসা পরিচালনা, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারে পণ্য বিক্রির মতো বিষয়ও শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যোগ্য সুবিধাভোগীরা জামানত ছাড়াই ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ঋণের মেয়াদ ১৮ মাস। প্রথম ঋণ নিয়ম মেনে পরিশোধ করলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী পর্যায়ে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঋণের সুদের হার সুবিধাভোগীর জন্য ৫ শতাংশ।
বিশ্বকর্মা যোজনায় ডিজিটাল লেনদেনকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যোগ্য ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে ১ টাকা করে ইনসেন্টিভ পাওয়া যায়। মাসে সর্বোচ্চ ১০০টি লেনদেনের জন্য এই সুবিধা মিলতে পারে।
শুধু ঋণ বা প্রশিক্ষণ নয়, কারিগরদের তৈরি পণ্য যাতে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেই জন্য বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্র্যান্ডিং এবং ই-কমার্সের মতো ক্ষেত্রেও সহায়তার ব্যবস্থা আছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। তবে আবেদনকারীকে প্রকল্পের তালিকায় থাকা ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার কোনও একটির সঙ্গে যুক্ত থাকা লাগবে। কামার, কুমোর, ছুতোর, স্বর্ণকার, নাপিত, ধোপা, দর্জি, রাজমিস্ত্রি, মালাকার, মূর্তিশিল্পী, চর্মকার, নৌকা প্রস্তুতকারী এবং মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারীদের মতো পেশা এই তালিকায় রয়েছে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
বিশ্বকর্মা যোজনায় আবেদন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকরমা পোর্টাল (PM Vishwakarma Portal ) ব্যবহার করতে হয়। চাইলে আপনি আপনার নিকটবর্তী CSC বা Common Service Centre থেকেও আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের সময় আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করা হয়। এরপর আবেদনটি স্থানীয় স্তর, জেলা স্তর এবং পরবর্তী পর্যায়ে যাচাই করা হয়। সব যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
PM Vishwakarma Schemes Details Check Website Link:- Click Now
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
